অ্যান্ড্রয়েড ফোন সম্পর্কে বলা হয় যে এটি একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম ও এই ওএসের সঙ্গে যা ইচ্ছা করা যেতে পারে। যে কেউ নিজের থেকে অপারেটিং সিস্টেম মোডিফিকেশন করতে পারেন, নিজের ইচ্ছা মতো ইউআই সেট করতে পারেন ও র্যাম ও মেমরির লিমিট পর্যন্ত সেট করা যায়। কিন্তু যখন ফোন কেনা হয় লিমিটেড অ্যাকসেস দেওয়া হয়। ফোনে ওয়ালপেপার, থীম ও অ্যাপের সেটিংস পাল্টানো যায় এর বেশি আর কিছু না। এছাড়া অ্যাপ ইনস্টল ও আনইনস্টল করা যায় কিন্তু র্যাম ডিফাইন ও ওভার ক্লকিং ইত্যাদি করা যায় না। এর কারণ হল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম হলেও মোবাইল কোম্পানিগুলো এতে লিমিট সেট করে দেয়। তারা ফোনের কোর অর্থাৎ টেকনিক্যাল ভাষায় রুট বলা হয় তা লক করে দেয়। এই কারণে হার্ডওয়্যারে অদলবদল করা যায় না। ফোনের র্যাম ও প্রসেসরের পরিবর্তন তো অনেক দূরের কথা আপনি ফোনের ফোনের সেটিংসও বেশি পাল্টাতে পারবেন না। এই কারণে অনেকেই ফোন রুটের সাহায্য নিয়ে থাকেন যাতে ফোনের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে তাদের কন্ট্রোল পেতে পারেন।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় ফোন রুটিং কি আদৌ ঠিক? আমাদের কি ফোন রুট করা উচিত? কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চাইলে তিনি বলবেন যদি ফোনে অনেক কিছু টেস্ট করা হয় তবে ফোন রুট করা যেতেই পারে কিন্তু যদি ফোন শুধুমাত্র অ্যাপ, ক্যামেরা ও মিউজিকের জন্য ব্যবহার করেন তবে ফোন রুট না করাই ভাল। কারণ এর থেকে ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এবিষয়ে বিস্তারিত জানার আগে জেনে নেওয়া যাক রুট কি।
রুটিং কি?
অ্যান্ড্রয়েড গুগলের তৈরি একটি অপারেটিং সিস্টেম যা যে কোনো স্মার্টফোন কোম্পানি তাদের ফোন তৈরির সময় ব্যবহার করতে পারেন। যেহেতু এটি একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম তাই স্মার্টফোন কোম্পানিগুলি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এই অপারেটিং সিস্টেমকে কাস্টমাইজ করে নেয় অর্থাৎ এতে পরিবর্তন করা হয়। আপনি দেখে থাকবেন স্যামসাঙের ফোনে স্যামসাং এক্সপেরিয়েন্স, শাওমির মিইউআই, ভিভোর ফনটাচ, ওপ্পোর কালার ওএস ও হুয়াইয়ের ইমোশন ইউআই ব্যবহার করতে দেখা যায়। প্রতিটি কোম্পানি নিজেদের ইউজার ইন্টারফেসের সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। একই সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েডের লিমিট সীমাবদ্ধ করে দেয়। তাই হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ততটাই ব্যবহার করা যায় যতটা কোম্পানি নির্ধারণ করে দেয়। কিন্ত ফোন রুটের মাধ্যমে আপনি একজন সুপার ইউজারে পরিণত হতে পারেন। রুট করার পর সেই সব কিছু অ্যাকসেস করা যায় যা কোম্পানি লক করে রেখেছে। রুটের আগে পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেমের অধিকার ও ম্যানেজ করার ক্ষমতা কোম্পানি হাতে থাকে তবে একবার রুট করে নেওয়ার পর এই দুই অধিকারই ইউজারের আওতায় চলে আসে।
কেন রুট করা হয়?
যেমনটা বলা হয় রুটের উদ্দেশ্য ফোনের মূল এবং রুটের মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেমের মূল অর্থাৎ কোরকে আনলক করা যায়। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন মূলত লিনাক্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং রুট শব্দটির উৎপত্তি ইউনিক্স/লিনাক্স থেকেই হয়েছে। সর্বপ্রথম লিনাক্স ও ইউনিক্স কম্পিউটারের প্রিইনস্টল ওএস সরিয়ে কাস্টম ওএস ইনস্টল করার অপশন দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছায় যে কোনো সিস্টেম ফাইল ও প্রোগ্ৰামে পরিবর্তন করতে পারতেন।
এই একই অধিকার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনেও দেওয়া হয়। ফোন রুট করে এতে কাস্টম ওএস ইনস্টল করা যায় এবং এরপর ফাইল, ফোল্ডার, সফটওয়্যার এমনকি ইউজার ইন্টারফেসের কোড পর্যন্ত পাল্টানো যায়। এক্ষেত্রে ওএসের একদম গোড়ায় পরিবর্তন করা হচ্ছে। এই কারণেই একে রুট বলা হয়। ফোন রুট করার পর এর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর রাইট কোম্পানির বদলে ইউজারের হাতে চলে আসে।
রুটের পর কি অপারেটিং সিস্টেম বদলে যায়?
প্রথমেই বলা হয়েছে ফোন রুট করার পর এতে কাস্টম ওএস ইনস্টল করা হয়। আপনি হয়তো ভাবছেন ফোনের অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে বদলানো যায়? তাহলে বলে রাখি ফোনের ওএস অ্যান্ড্রয়েডই থাকবে তবে এতে কাস্টম রম দেওয়া যায়। কাস্টম রম সাধারণত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের থেকে একটু বেশি অ্যাডভান্স হয় কারণ এতে আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচার সেট করতে পারবেন। চাইলে আপনি পাওয়ার বাটনে ক্যামেরা ও ভলিউম বাটনে স্ক্রিন অন অফ সেট করতে পারবেন। এছাড়া হাই গ্ৰাফিক্স ও লো গ্ৰাফিক্স গেম ও অ্যাপ চালানোর সময় প্রসেসর ও র্যামের লিমিটও আলাদা আলাদাভাবে কাজ করে।
তাহলে রুট করা কি অনুচিত?
প্রথমেই বলে দেওয়া হয়েছে ফোন রুট করা উচিত নয়। এর অনেক কারণ আছে। এর সর্বপ্রথম কারণ ফোন রুট করলে তার ওয়ারেন্টি শেষ হয়ে যায়। যদি ফোনে কোনো সমস্যা দেখা যায় তো কোম্পানি সেক্ষেত্রে কোনো রকম দায়বদ্ধ থাকবে না। রুটের সময় যেহেতু ফোনের কোরে গিয়ে কাজ করা হয় তাই একটি ছোট ভুলের জন্যও ফোন পুরোপুরি খারাপ হয়ে যেতে পারে। ফোন দিয়ে তখন আর কিছুই করা যাবে না। তাই সব কোম্পানি তাদের ওএস এমনভাবে মোডিফাই করে যাতে ফোন রুট করা না যায়।
গুগল তাদের পিক্সেল ফোনে কোড করার অপশন সহজ করে রাখে যাতে ডেভলপার্স সহজে ফোন রুট করতে পারে। এছাড়া ওয়ানপ্লাস ও এইচটিসি তাদের ফোনের রুট অ্যাকসেস সহজ রাখে। তাও বলব ফোন রুট না করাই ভালো।
