‘মোবাইল গেম’ এর কাছে মনে হয় জীবন আরও সস্তা’। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি শোনার পরে আপনাদেরও এটাই মনে হবে। মোবাইল ও কম্পিউটারের গেম গুলোকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এসব গেমের প্রতি আসক্তি বিনোদন নয়, বরং মানসিক চাপ, বিষণ্নতা ও বদভ্যাসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ওড়িশা রাজ্যে, যেখানে ক্লাস 7 এর এক পড়ুয়া, 12 বছর বয়সী একটি ছেলেকে তার বন্ধুরা খুন করেছে। বন্ধুদের গেম খেলার জন্য ফোন না দেওয়ায় শেষ হয়ে গেল একটি তরতাজা প্রাণ।
মোবাইল গেম যখন খুনের কারণ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল গেম খেলার জন্য ফোন না দেওয়ায় সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া একটি ছেলেকে তার বন্ধুরা খুন করে লাশটি নদীর তীরে ফেলে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে ওডিশার কোরাপুট জেলায়।সেখানে 12 বছর বয়সী এক কিশোরের কাছে তার বন্ধুরা গেম খেলার জন্য ওই কিশোরের মোবাইল ফোনটি চেয়েছিল, কিন্তু ছেলেটি ফোন দিতে রাজি না হওয়ায়, প্রথমে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং তারা ওই ছেলেটিকে খুন করে ফেলে।
বলা হচ্ছে যে তিনটি ছেলেই মাসিপুট গ্রামের বাসিন্দা এবং তারা স্কুলের কাছে মোবাইলে গেম খেলছিল। গেম খেলার জন্য নিহতের বন্ধু তার ফোন চাইলে ছেলেটি অস্বীকার করে। এ নিয়ে তিনজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে ছেলেটির বন্ধুরা তাকে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনার দুই ছেলে মিলে নিহতের লাশ পাশে একটি নদীর তীরে ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ছেলেটি বাড়িতে না ফেরায় তার বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরের দিন পুলিশ নদীর তীরে লাশটি খুঁজে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি হেফাজতে নিয়ে স্বজনদের ডেকে লাশ শনাক্ত করে। রিপোর্ট অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি তফসিলি উপজাতির, তাই খুনিদের বিরুদ্ধে আরও অনেক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই বন্ধুকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আসক্তি মানুষের প্রাণও কেড়ে নিতে পারে
একটি 12 বছরের শিশুর নির্মম হত্যা সত্যিই হৃদয় বিদারক ঘটনা। তবে এই খুনের কারণ যদি শুধুমাত্র মোবাইল গেম ই হয়ে থাকে , তাহলে বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক । মোবাইল ফোন ও গেমের প্রতি আসক্তি প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে কিশোরদের। প্রায়দিনই এমন খবর আসছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, মোবাইল গেমের কারণে ছেলেমেয়েরা ঘরে চুরি করছে, কেও আবার আত্মহত্যা করছে। শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অভিভাবকদের অবশ্যই সন্তানদের সময় দেওয়া উচিত যাতে তাদের মোবাইল গেম এর প্রতি আসক্তি না জন্মায়।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন











