PUBG Mobile গোটা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল গেমগুলির মধ্যে অন্যতম। ভারতেও এই গেমের ভক্তদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষার দিক থেকে গেমটি সরকার সন্দেহের নজরে আসে এবং ফলস্বরূপ গত বছর ভারত সরকার ভারতে পাবজি মোবাইল ব্যানড করে দেয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরেও এমন অনেক স্মার্টফোন ইউজার আছেন যারা এখনও পর্যন্ত এই গেম খেলেন। প্রথম থেকেই বিভিন্ন সমালোচনার পর আরও একবার এই মোবাইল গেম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। খবর পাওয়া গেছে পাবজি গেম নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হওয়ার পর এক 12 বছরের কিশোরকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনা ঘটেছে কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরু জেলায়। এএনআই এর রিপোর্ট অনুযায়ী এই 12 বছর বয়সী কিশোর পাবজি মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত ছিল এবং পরিণতি হিসেবে তাকে নিজের প্রাণ হারাতে হল। একদিন আগে এই কিশোর বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। চিন্তিত পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন। পরের দিন বাড়ি থেকে কিছু দূরে এই কিশোরের মৃতদেহ পাওয়া যায় এবং পরে তদন্ত করে জানা যায় পাবজি মোবাইল নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়ে পরে হাতাহাতির কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
কি ঘটেছে?
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এই মৃত কিশোর দীর্ঘদিন ধরেই PUBG Mobile খেলে এবং তাঁর কাছে এই গেম রীতিমতো একটি নেশার মতো ছিল। প্রায় মাস খানেক আগে দীপক নামের 17 বছর আরেক কিশোরের সঙ্গে আলাপ হয়। একটি মোবাইল দোকানে দুজনের প্রথম দেখা হয় এবং সেখানে তারা তাদের পাবজি আইডি এক্সচেঞ্জ করে। এরপর থেকে তারা এক সঙ্গেই গেম খেলত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে শনিবার রাতে দীপক এবং মৃত কিশোর দুজন এক সাথে বসে গেম খেলছিল এবং গেম খেলার সময়ই দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে দীপক মৃত কিশোরের ওপর সন্দেহ করে যে তাঁর আইডি দিয়ে আরও কেউ গেম খেলে এবং এই সন্দেহ থেকেই তর্কাতর্কির সূত্রপাত। এই কারণেই শনিবার তারা বাজী রেখে গেম খেলা শুরু করে। মৃত কিশোর গেমে হেরে গেলে দীপক তাকে চীটার বলে ক্ষ্যাপাতে শুরু করে ও তর্কাতর্কি ঝগড়ায় পরিবর্তিত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে দীপক ক্ষ্যাপানো শুরু করলে মৃত কিশোর তাকে পাথর ছুঁড়ে মারে। এর উত্তরে দীপক পাথর মারলে মৃতের মাথায় লাগে এবং রক্ত ঝড়তে শুরু করে। গুরুতর চোটের কারণে তৎক্ষণাৎ সেই 12 বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু হয়ে যায়। মৃতের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অন্যান্য সূত্রের হদিশ করছে এবং তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
জানিয়ে রাখি PUBG Mobile এর জন্য মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এই গেমের কারণে কখনও ঝগড়ার ফলে হত্যা আবার কখনও আত্মহত্যা আবার কখনও বা নিজের পরিবারের সদস্যকেও হত্যা করতে দেখা গেছে। এখন আমাদের প্রত্যেককে নিজেকে এবং নিজেদের মানুষদের বোঝাতে হবে এটি সামান্য একটি গেম হলেও এর নেশা অত্যন্ত বাজে পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন











