সাইবার ক্রাইমের সংখ্যা এবং গতিবিধি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পরেও সাধারণ মানুষ জোচ্চুরির শিকার হয়ে চলেছে। সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষিত যুবকরাও সাইবার ফ্রডদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ি বসে টাকা কামানোর লোভে টাকা লোকসান হতে দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের একটি ঘটনা সম্পর্কে এবার জানা গেছে যেখানে উত্তর ভারতের এক বিএড ছাত্র বাড়ি বসে আয়ের লোভে 3 লক্ষ টাকা খুইয়েছেন।
হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে আসে জব লিঙ্ক
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী বৈশালী নামক এক বিএড ছাত্রীর সঙ্গে এই সাইবার ফ্রড হয়েছে। গত মাসে বৈশালীর কাছে একটি unknown number থেকে জব অফার সহ একটি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ আসে বলে জানা গেছে। এই ম্যাসেজে বাড়ি বসে টাকা কামানোর অফার দেওয়া হয়। চাকরি বা টাকার লোভে যুবতী সম্মতি জানালে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্ক শেয়ার করা হয়।
হোয়াটসঅ্যাপের এই ম্যাসেজে ক্লিক করে বৈশালী একটি Telegram গ্রুপে জয়েন করেন। এই গ্রুপে তাকে কিছু টার্গেট দেওয়া হয়। এই টার্গেট কমপ্লিট হলে তাকে টাকা দেওয়ার কথা। টাস্ক কমপ্লিটের পাশাপাশি তাকে কিছু টাকাও জমা করতে বলা হয়। স্ক্যামারদের কথার জালে ফেঁসে তিনি টাকা জমাও করে দেন।
সাত বার চাওয়া হয় টাকা
আমাদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফ্রডদের কথায় বৈশালী তাদের টাকা দিয়ে দেন। তবে এখানেই শেষ নয়। ক্রিমিনালদের পক্ষ থেকে বারবার টাকা চাওয়া হয়। বৈশালী তাঁর নিজের এবং তাঁর বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে 7 বার পেমেন্ট করে মোট 3 লক্ষ টাকা স্ক্যামারদের হাতে তুলে দেন। তবে এর পরেও টাকা চাওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন তাঁর সঙ্গে স্ক্যাম হয়ে গেছে।
সাইবার ফ্রডদের শিকার হওয়ার পর যুবতী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে মামলা করেন। বর্তমানে পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। তবে অতীতের পাতায় চোখ রাখলে খুব কম ঘটনাই এমন পাওয়া যাবে যেখানে কোনো প্রতারিত তাঁর হারান টাকা ফেরত পেয়েছেন।
সাইবার ফ্রডের হাত থেকে বাঁচার উপায়
- কোনো অচেনা ব্যাক্তির সঙ্গে নিজের গুরুত্বপূর্ণ পার্সোনাল ডিটেইলস যেমন ফোন নাম্বার, আধার নাম্বার, প্যান নাম্বার শেয়ার করবেন না।
- কারোর সঙ্গে নিজের ব্যাঙ্ক ডিটেইলস এবং ওটিপি শেয়ার করবেন না।
- কোনো কাজের বিনিময়ে টাকা কামানোর কথা উঠলে প্রথমে প্রথমে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন।
- শুধুমাত্র ম্যাসেজ বা কল নয়, নিজে সশরীরে খোঁজখবর নিন।
- কোনো ব্যাক্তি পুলিশ, ব্যাঙ্কের কর্মচারী, মোবাইল কোম্পানি বা কোনো আবশ্যকীয় পরিচয় দিয়ে কথা বললে প্রথমে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।
- আন্তর্জাতিক নাম্বার থেকে আসা কল রিসিভ করবেন না।
- অচেনা ভিডিও কল এড়িয়ে চলুন এবং নিশ্চিত না হয়ে কল ধরবেন না।
- কোনো অচেনা নাম্বার থেকে কল এলে সেখানে কল ব্যাক করবেন না।
- কেউ কল করে ভয় দেখালে ভয় না পেয়ে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিন।










