Vivo ভারতে তাদের Y সিরিজের বাজেট ফোনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের পার্টনার এবং রিটেইল টীমের কাছে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে জানানো হয়েছে গতকাল অর্থাৎ 10 ডিসেম্বর থেকে Vivo Y31 ফোনের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রাইস হাইক গোটা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। কোম্পানির Vivo Y31 5G ফোনটি দুটি স্টোরেজ অপশনে সেল করা হয় এবং দুটি মডেলের দামই 1,000 টাকা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন আপডেট অনুযায়ী Vivo Y31 5G ফোনের 4GB+128GB মডেল আগে 14,999 টাকা দামে সেল করা হয়, এখন দাম বাড়িয়ে 15,999 টাকা করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে 6GB+128GB মডেলের দাম 16,499 টাকা থেকে বেড়ে 17,999 টাকা হয়ে গেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের সমস্ত পার্টনারকে এই দাম প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে।
জানিয়ে রাখি সম্প্রতি Vivo তাদের T-সিরিজের Vivo T4, T4R, T4X এবং T4 Lite ফোনগুলির দাম বাড়িয়েছে। বর্তমান বাজারের ফের বদলের সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন বাড়ানো হয়েছে দাম।
কেন বাড়ছে দাম?
গ্লোবাল বাজারে মেমরি চিপ (RAM এবং স্টোরেজ) এর দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাজেট রেঞ্জের ফোনগুলির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে মেমরি সাপ্লায়ারগুলি AI সার্ভারের জন্য হাই-ব্যান্ডউইথ মেমরি (HBM) এ ফোকাস করছে। মোবাইল গ্ৰেড DRAM এবং NAND এর জোগানে ঘাটতি পড়ছে। এর ফলে এসবের দাম বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার ভ্যালু ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ায় ইমপোর্টেড কম্পোনেন্টের জন্য বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি দ্রুত গতিতে AI-ফোকাসড হার্ডওয়্যারের দিকে এগিয়ে চলেছে। ফলে ভালো প্রসেসর, বেশি RAM/Storage এবং অ্যাডভান্স টেকনোলজির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে সম্পূর্ণ BOM (Bill of Materials) এর খরচও আগের চেয়ে বেশি পড়ছে। এইসব কারণে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির মার্জিনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। তাই বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের নতুন এবং পুরনো ফোনের দাম বাড়ানো হচ্ছে। শুধুমাত্র Vivo নয়, বরং Realme, Oppo, Xiaomi এর মতো বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ফোনের দাম বাড়িয়েছে।
15,000 থেকে 20,000 টাকা দামের বাজেট সেগমেন্টে কোম্পানির খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে কম্পোনেন্ট কস্টের কারণে এই মূল্য বৃদ্ধির ট্রেন্ড 2026 সাল পর্যন্ত বজায় থাকবে।
জানিয়ে রাখি ভিভো মূলত নতুন বেশি দাম ম্যানেজ করা, AI-ফোকাসড টেকনোলজি ডেভেলপ ফান্ড করা এবং বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রোডাক্ট পোর্টফোলিও বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তাদের ডিভাইসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শীঘ্রই ফোনের দাম কমে যাবে বলে আমরা মনে করছি। তবে পরিস্থিতি কত দিন বজায় থাকবে সেটাই দেখার। এই মুহূর্তে যারা ফোন কিনছেন তাদের স্বাভাবিকভাবেই বেশি দাম দিতে হচ্ছে। তবে যেসব ফোনের দাম বাড়েনি, সেগুলি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।











