ভারতের বাজারে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় শপিং প্ল্যাটফর্ম হিসাবে Amazon অন্যতম। বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস ও প্রোডাক্টের জন্য সুপরিচিত এই কোম্পানি খুব তাড়াতাড়ি তাদের নিজস্ব স্মার্টফোন নিয়ে আসতে চলেছে। আমাজন তাদের নিজস্ব স্মার্টফোনে কাজ করছে এবং এই বছর অর্থাৎ 2026 সালেই এই ডিভাইস পেশ করা হতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিউজ এজেন্সি রিউটার্স তাদের এক্সক্লুসিভ রিপোর্টের মাধ্যমে এই আপকামিং Amazon ফোনটি সম্পর্কে জানিয়েছে। এই তথ্য সঠিক হলে ইউজাররা আরও একটি নতুন স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের অপশন পাবেন।
রিউটার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী আমাজন বর্তমানে এই ফোনটিতে কাজ করছে। এই আপকামিং ফোনটি “Transformer” নামে ডেভেলপ করা হচ্ছে। খবর থেকে জানা গেছে, আমাজনের ডিভাইস অ্যান্ড সার্ভিসেস ডিভিশন এই ডিভাইসটি ডেভেলপ করছে। রিউটার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ফোনটি একটি পার্সোনালাইজড ডিভাইস হিসাবে পেশ করা হতে পারে এবং এতে ইন-বিল্ট Alexa অ্যাক্সেসও দেওয়া হতে পারে।
আপকামিং Amazon স্মার্টফোনে কোম্পানির অন্যান্য পরিষেবাও যোগ করা হতে পারে। অর্থাৎ এই ফোনটিতে আমাজন শপিং সাইটের পাশাপাশি বিনামূল্যে Prime Video এবং Prime Music সাবস্ক্রিপশনও দেওয়া হতে পারে। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এই বেনিফিট সীমিত সময়ের জন্যই দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে এই ফোনটি কেমন হবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
জানিয়ে রাখি এই প্রথম আমাজন তাদের মোবাইল পেশ করতে চলেছে, এমন কিন্তু নয়। এর আগে 2014 সালেও কোম্পানি Amazon Fire Phone লঞ্চ করেছিল। এটি কোম্পানির প্রথম স্মার্টফোন ছিল এবং স্বয়ং Jeff Bezos এই ফোনটি পেশ করেছিলেন। এই ফোনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাজন ইকোসিস্টেমকে আরও মজবুত করে তোলা। এই ফোনটিতে Qualcomm Snapdragon 800 প্রসেসরের পাশাপাশি 2GB RAM দেওয়া হয়েছিল।
আমাজন ফায়ার ফোনে 4.7 ইঞ্চির এইচডি ডিসপ্লে যোগ করা হয়েছিল। ফটোগ্রাফির জন্য এতে 13MP রেয়ার ক্যামেরা দেওয়া হয়েছিল। এই ফোনটি Android বেসড Fire OS অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করত। তবে পরবর্তী সময়ে এই ফায়ার ওএসই এই ফোনটির জন্য অন্যতম সমস্যায় পরিণত হয়ে উঠেছিল। Fire OS সব ধরনের অ্যাপ সাপোর্ট করত না এবং এর ফলে ইউজাররা তাদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপ ব্যাবহার করতে পারত না।
জানিয়ে রাখি এই ফোনে একটি Dynamic Perspective ফিচার দেওয়া হয়েছিল। এতে স্ক্রিনের ওপর চারটি ইনফ্রারেড ক্যামেরা যোগ করা হয়েছিল, যা ইউজারদের মাথা ও চোখের মুভমেন্ট ট্র্যাক করত। এর ফলে স্ক্রিনে 3D এর মতো এফেক্ট দেখা যেত। তবে দৈনন্দিন ব্যাবহারের ক্ষেত্রে এই ফিচার খুব বেশি উপযোগী হয়ে ওঠেনি এবং এই কারণেও ফোনটি জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল।











