দেশে উৎসবের মরশুম শুরু হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় উৎসব স্বাধীনতা দিবসের সাথেই ভাই-বোনের পবিত্র উৎসব রাখী বন্ধনের উৎসবও দেশে জোর কদমে শুরু হয়ে গেছে। কিছু জায়গায় যেখানে ভাই নিজের বোনের বাড়ি যাওয়ার প্ল্যানিং করছে তো কিছু জায়গায় বিবাহিত মহিলারা রাখী উৎসবের জন্য নিজের বাপের বাড়ি গিয়ে পালন করার জন্য উৎসাহিত। Indian Railways আম নাগরিকদের প্রয়োজন এবং সুবিধা দেখে কিছু বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু কিছু সময় এমন হয় যখন ট্রেন টিকিট বুক করলেও কন্ফর্ম সিট পাওয়া যায় না। কন্ফর্ম সিটের জন্য দালালদের বেশি টাকা দিতে হয় কিন্তু তারপরেও সুবিধা হয় না। এরকম সমস্যা সমাধান করার জন্য আজকে আমরা বলতে চলেছি যৈ কিভাবে নিশ্চিন্তায় নিজে থেকেই তৎকাল টিকিট বুক করতে পারবেন।
কিছু সম ট্রেনের রিজার্ভেশন আগে থেকেই পুরো হয়ে যায় আর সব সিট বুক হয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতিতে ‘তৎকাল টিকিট বুকিং’ ই একমাত্র রাস্তা থাকে। কিন্তু এটাও সত্যি যে নিজে থেকে তৎকাল টিকিট বুক করাও খুব চিন্তার বিষয়। তৎকাল কোটা খোলার মিনিটের মধ্যে সব উপলব্ধ সিট বুক হয়ে যায়। এরকম সিচুয়েশনে আসলে কি করতে হবে আর কিরকম ভাবে বুকিং কন্ফর্ম করা যাবে সেই উপায় আগে বলা হয়েছে। সবার আগে বলে দিই যে তৎকাল কোটা সকাল 10 টার সময় খোলে যা এসি কোচের জন্য হয়। আবার স্লিপার কোচের জন্য তৎকাল বুকিং 11 টা থেকে শুরু হয়।
1. আগে থেকে লিস্ট বানিয়ে নিন
যারা-যারা ট্রেনে ট্রাভেল করবে তাদের সবার ডিটেইলস আগেই নিজের প্রোফাইলে সেভ করে রাখুন। এতে নাম এবং বয়স ইত্যাদি থাকে। IRCTC তে থাকা নিজের একাউন্টের প্রোফাইল সেক্শানে এই লিস্ট বানানো যাবে। আগে থেকে লিস্ট তৈরি করা থাকলে টিকিট বুকিংয়ের সময় এই ডিটেইলস আবার পূরন করতে হবে না সময়ও বেচে যাবে।
2.লগ-ইন করে রেডি থাকুন
বড়ো অভিভাবকেরাও এটা বোঝায় যে ধৈর্য্য ধরা ভালো, শেষ সময়ে অধৈর্য হওয়া উচিত না। এই কথাটি টিকিট বুকিংয়েও লাগু হয়। তৎকাল বুকিং ওপেন হওয়ার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই নিজের আইডি লগ ইন করে নিন। আইডি লগিনের সাথেই ট্রেন রুট, স্টেশন কোড, বার্থ সিলেকশনের মতো ডিটেইলস আগে থেকে পূরণ করে নিন আর যেই তৎকাল কোটা ওপেন হবে তখন আগে থেকে সেভ করা প্যাসেঞ্জার লিস্টে যাত্রীদের নাম সিলেক্ট করুন আর পেমেন্ট মোডে চলে যান।
3. ব্যাঙ্ক ডিটেইলস আর সিবিবি সামনে রাখুন
প্যাসেঞ্জার লিস্ট আগে থেকে বানিয়ে আর আইডি লগ-ইনে ডিটেইলস আগেই ভরে আপনি অনেকটাই সময় বাচিয়েছেন। কিন্তু এখন পেমেন্টের সময় আসলে প্রায়ই লোকেরা বিভ্রান্তিতে পরে যায় নাহলে নার্ভাস হয়ে যায়। এরকম অবস্থায় নিজের ব্যাঙ্ক ডিটেইলস আগে থেকে তৈরি করে রাখুন। পারলে কাউকে নিজের কাছে বসিয়ে রাখুন যাতে সে নাম্বার বলতে পারে আর আপনি টাইপ করতে পারবেন। আবার এর সাথেই যে নাম্বারে ওটিপি আসবে সেটিও আনলক করে নিজের কাছেই রাখুন।
4. ওটিপি ছাড়াই করুন পেমেন্ট
যখন ব্যাঙ্কিং ডিটেইলস দিয়ে পেমেন্ট করা হয় তখন রেজিস্টার্ড মোবাইল নাম্বারে ওটিপি আসে, যেটিকে ভেরিফাই করে পেমেন্ট করা যায়। এমতাবস্থায় তো IRCTC তে পেমেন্ট করার বহু মাধ্যম আছে যার মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং, ওয়ালেট এবং ইউপিআই ইত্যাদি আছে। কিন্তু আমাদের মতে যদি সময় বাচাতে হয় তাহলে UPI পছন্দ করাই ভালো। এই উপায়ে নিজের ইউপিআই পাসওয়ার্ডই দিতে হবে আর ওটিপির প্রয়োজন হবে না।
5. ইন্টারনেট স্পীড
আপনার উপরে বিশ্বাস আছে যে উপরে বলা সব প্রসেস আপনি খুবই সহজে আর স্মার্টনেসের সাথে করে নেবেন। কিন্তু যদি ইন্টারনেট বিশ্বাস ঘাতকতা করে তাহলে সমস্ত খাটনি বেকার হয়ে যাবে। এইজন্য বলা হয় যে আগে থেকেই এটি সুনিশ্চিত করে নিন যে আপনার ইন্টারনেট কানেকশন কেমন। যদি কেউ এরকম জায়গায় থাকে যেখানে ইন্টারনেট স্পীড ভালো আসে তাহলে সেখানে বসেই বুকিং শুরু করুন। এখানে মনে রাখবেন যে সিস্টেম আর ব্রাউজারে নিজের আইডি লগইন করুন। একটি আইডি যদি আলাদা আলাদা সিস্টেমে লগইন করা থাকে তাহলে অসুবিধা হতে পারে।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
