Home খবর লঞ্চ হল iPhone 16, নতুন ডিজাইন, অ্যাডভান্স ক্যামেরা এবং AI সহ পাওয়া যাবে অনেক কিছু

লঞ্চ হল iPhone 16, নতুন ডিজাইন, অ্যাডভান্স ক্যামেরা এবং AI সহ পাওয়া যাবে অনেক কিছু

Apple এমন এক টেক কোম্পানি যেটি গোটা বছরে মাত্র একবার তাদের ফোন লঞ্চ করে এবং সেই ফোনের দৌলতে সাফল্যের নতুন রেকর্ড গড়ে দেখায়। গতকাল কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের নতুন আইফোন 16 সিরিজের অধীনে iPhone 16, iPhone 16 Plus, iPhone 16 Pro এবং iPhone 16 Pro Max ফোনগুলি পেশ করা হয়েছে। এই পোস্টে কোম্পানির লেটেস্ট iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus ফোন সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus ফোনের ছবি

iPhone 16 ফোনের দাম

ভারতে iPhone 16 ফোনের দাম 79,999 টাকা থেকে শুরু। এটি এই ফোনের 128GB মডেলের দাম। একইভাবে এই ফোনের 256GB মডেল 89,999 টাকা এবং 512GB মডেল 1,09,900 টাকা দামে লঞ্চ করা হয়েছে। iPhone 16 ফোনটি আগামী 20 সেপ্টেম্বর থেকে সেল করা হবে। এই ফোনটি ultramarine, teal, pink, white এবং black কালারে লঞ্চ করা হয়েছে।

iPhone 16 Plus ফোনের দাম

iPhone 16 Plus ফোনের প্রাথমিক দাম 89,999 টাকা। এটি এই ফোনের 128GB মডেলের দাম। এই ফোনটির 256GB এবং 512GB মডেলের দাম যথাক্রমে 99,999 টাকা এবং 1,19,900 টাকা। ভারতে আগামী 20 সেপ্টেম্বর থেকে iPhone 16 Plus ফোনের সেল শুরু হবে। এই ফোনটি ultramarine, teal, pink, white এবং black কালার অপশনে লঞ্চ করা হয়েছে।

আগামী 13 সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা 5টা বেজে 30 মিনিট থেকে ভারতে নতুন আইফোনের সেল শুরু হয়ে যাবে।

iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus ফোনের স্পেসিফিকেশন

ডিসপ্লে

iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus উভয় ফোনে Dynamic Island ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে। এই Super Retina স্ক্রিন OLED প্যানেল দিয়ে তৈরি। iPhone 16 ফোনে 6.1-ইঞ্চির এবং 16 Plus ফোনে 6.7-ইঞ্চির ডিসপ্লে রয়েছে। এই স্ক্রিন 2000nits ব্রাইটনেস, HDR10 এবং Dolby Vision সাপোর্ট করে।

পারফরমেন্স

iPhone 16 এবং 16 Plus ফোনদুটি অ্যাপেলের লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম iOS 18 সহ বাজারে পেশ করা হয়েছে। এই দুটি ফোনেই প্রসেসিঙের জন্য Apple A18 Bionic চিপসেট যোগ করা হয়েছে। এই 6-কোর সিপিইউতে 3.89GHz ক্লকস্পীডযুক্ত দুটি পারফরমেন্স কোর এবং 2.2GHz ক্লকস্পীডযুক্ত চারটি এফিসিয়েন্সি কোর রয়েছে।

iPhone 16 ফোনের হেক্সা-কোর সিপিইউ iPhone 15 ফোনের সিপিইউ-এর চেয়ে 30% বেশি ফাস্ট বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী নতুন iPhone 16 ফোনের 5-core GPU পুরনো iPhone 15 A16 Bionic এর তুলনায় 40% ফাস্ট এবং 35% এফিসিয়েন্ট।

স্টোরেজ

iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus দুটি ফোনই তিনটি স্টোরেজ অপশনে পেশ করা হয়েছে। এই দুটি ফোনেই বেস ভেরিয়েন্টেই 128GB স্টোরেজ রয়েছে। একইভাবে উভয় ফোনের মিড মডেলে 256GB এবং টপ মডেলে 512GB স্টোরেজ রয়েছে। এই খবর লেখার সময় পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে এই দুটি ফোনের RAM সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

ক্যামেরা

ফটোগ্রাফির জন্য iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus ফোনে ডুয়েল রেয়ার ক্যামেরা সেটআপ দেওয়া হয়েছে। ফোনের ব্যাক প্যানেলে ট্রু টোন ফ্ল্যাশ সহ f/1.6 অ্যাপার্চারযুক্ত 48MP 26mm সেন্সর রয়েছে। এর সঙ্গে 120° FOV সাপোর্টেড ও f/1.6 অ্যাপার্চারের ক্ষমতাসম্পন্ন 12MP 2x টেলিফটো লেন্স যোগ করা হয়েছে।

সেলফি, ভিডিও কল ও রীল তৈরির জন্য iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus দুটি ফোনেই f/1.9 অ্যাপার্চারযুক্ত 12MP টেলিফটো লেন্স দেওয়া হয়েছে।

নতুন ক্যামেরা কন্ট্রোল: নতুন ডিজাইনের পাশাপাশি iPhone 16 ফোনে নতুন ক্যামেরা কন্ট্রোল বাটন দেওয়া হয়েছে। এটি একটি সেন্সর যা ফোনের ডানদিকের ফ্রেমে অবস্থিত। এই সেন্সরটি টাচ করলেই ফোনের ক্যামেরা অ্যাপ ওপেন হয়ে যাবে। এই সেন্সর টাচের মাধ্যমেই ছবি তোলা ও ভিডিও রেকর্ডিঙের মতো কাজগুলি করা যাবে। এই সেন্সর বাটন ট্যাপ ও স্ক্রল করে ক্যামেরা সেটিংসও পরিবর্তন করা যাবে।

ব্যাটারি

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে 5500mAh এবং 6000mAh ব্যাটারি খুবি সাধারণ হয়ে গেছে। অথচ এখনও আইফোন অত্যন্ত কম ক্ষমতার ব্যাটারি সহ বাজারে আসছে। এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত নয়, তবে মনে করা হচ্ছে iPhone 16 ফোনে 3,561mAh এবং iPhone 16 Plus ফোনে 4,006mAh ব্যাটারি রয়েছে।

Apple এর বক্তব্য অনুযায়ী iPhone 16 ফোনের ব্যাটারি ফুল চার্জ হলে 22 ঘন্টা ভিডিও এবং 80 ঘন্টা অডিও প্লেব্যাক দিতে সক্ষম। অন্যদিকে iPhone 16 Plus ফোনে 27 ঘন্টা ভিডিও এবং 100 ঘন্টা অডিও প্লেব্যাক পাওয়া যাবে।

iPhone 16 এবং iPhone 16 Plus দুটি ফোনেই ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট যোগ করা হয়েছে। উভয় ফোনেই MagSafe এবং Qi wireless charging টেকনোলজি রয়েছে। এই ফোন 25W MagSafe wireless charging এবং 15W Qi wireless charging সাপোর্ট করে।

Apple Intelligence

iPhone 16 সিরিজে Apple Intelligence ফিচার যোগ করা হয়েছে। ফোনে ফটো তোলা থেকে এডিট করা সব ক্ষেত্রেই এই এআই ব্যাবহার করা যাবে। ইন্টারনেটে কন্টেন্ট সার্চ করা বা ফটো অ্যাপে ছবি সিলেকশন প্রতিটি ক্ষেত্রেই AI এর সুবিধা পাওয়া যাবে। ইউজার ইন্টারফেস এবং সফটওয়্যারেও এর উপযোগিতা পাওয়া যাবে। ইমেইল থেকে চ্যাট ও মেসেজিঙের ক্ষেত্রগুলি আরও অরগানাইজ হয়ে যাবে।