ইলেকট্রিক টু-হুইলারের চাহিদা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে, তাই বর্তমানে অনেক নতুন এবং পুরানো অটোমোবাইল কোম্পানি গুলো তাদের নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার এবং ইলেকট্রিক বাইক পেশ করছে। কিন্তু এরই মধ্যে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই আবর্জনা থেকে ফেলে দেওয়া পুরনো জিনিসের সাহায্যে একটি ইলেকট্রিক বাইক তৈরি করে সবাইকে চমকে দিয়েছে এক শিক্ষার্থী। অপূর্ব সিং নামের এই ছাত্র ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বারি কোঅপারেটিভ কলোনিতে থাকেন এবং কলকাতা থেকে BCA করছেন। এই পোস্টে আপনাদের এই অনবদ্য বাইকটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো।
রেঞ্জ এবং টপ স্পিড
নিউজ 18-এর খবর অনুযায়ী, অপূর্ব তাঁর বাইকে বসে সবাইকে বলেছেন, কোনো কোলাহল নয়, কোনো শব্দ নয়, এমনকি দূষণও নয়। পেট্রোলের ঝামেলাও শেষ। একবার ব্যাটারি চার্জ হয়ে গেলে, এই ই-বাইকটি দুজন যাত্রী নিয়ে 80 কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। এছাড়াও এই বাইকটি তৈরিতে খরচ হয়েছে 45 হাজার টাকা। এছাড়াও এর সর্বোচ্চ গতি 50 kmph।
কোথা থেকে পেল ই-বাইক বানানোর আইডিয়া?
করোনার কারণে দীর্ঘ সময় কলেজ বন্ধ ছিল এবং অপূর্ব নিজের বাড়িতে অনলাইনে ক্লাস করে পড়াশোনা করছিলেন। অপূর্ব তার অবসর সময়ে ইউটিউব থেকে ইলেকট্রিক বাইক তৈরির বিষয়ে শিখেছে এবং সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করেছে। এছাড়াও এই কাজে অপূর্ব তার বড় ভাই বিশালের সাহায্য নিয়েছিলেন, যিনি ব্যাঙ্গালোরের একটি কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার। ঠিক তার পরেই সে ইলেকট্রিক বাইক তৈরি করতে শুরু করে।
আবর্জনা থেকে নিয়েছিল বাইক তৈরির উপাদান
অপূর্ব তার কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা দিয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এই ই-বাইকটি তৈরি করেছে। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে অপূর্ব এই ই-বাইকটি তৈরি করতে নতুন নয়, পুরানো জিনিস ব্যবহার করেছেন। অপূর্ব তার ই-বাইকের জন্য মোটর, ব্যাটারি, চাকা, টায়ার এবং অন্যান্য জিনিস কাছাকাছি থাকা গ্যারেজ, এবং ফেলে দেওয়া পুরনো আবর্জনা থেকে সংগ্রহ করেছেন।
বাইকটির বিশেষত্ব
এই ই-বাইকটির নির্মাতা অপূর্ব জানিয়েছেন , সে যেই ইলেকট্রিক বাইকটি তৈরি করেছে, সেই ক্ষমতার বাইক বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা দামে। এই ই-বাইকে 48 ভোল্ট এবং 1000 ওয়াটের দুটি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি এই বাইকে এগিয়ে যাওয়ার পরেও রিভার্স করার অপশনও দেওয়া হয়েছে, যার জন্য কেবল একটি বোতাম টিপতে হবে।
চুরি করার চেষ্টা করলে বেজে উঠবে অ্যালার্ম
এই বাইকের সবথেকে বিশেষ ব্যাপার হল বাইকটিকে চুরির হাত থেকে রক্ষা করতে এতে একটি অ্যালার্ম লাগানো হয়েছে। বাইকটি কোথাও পার্ক করার সময় যদি এই ডিভাইসটি সক্রিয় থাকে, তবে বাইকটি চুরি করার চেষ্টা করা হলেই এই অ্যালার্মটি জোরে বেজে উঠবে।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
