করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে জারি করা লকডাউনের ফলে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বর্তমানে ছোটদের পড়াশোনা পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। বাচ্চারা যাতে ঠিক মতো অনলাইন ক্লাস অ্যাটেন্ড করতে পারে তাই অধিকাংশ অবিভাবক তাদের সন্তানদের স্মার্টফোন কিনে দিয়েছে। কিন্তু খতিয়ে দেখলে জানা যাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোটরা পড়াশোনার থেকে বেশি সময় কাটাচ্ছে অনলাইনে গেম খেলে। যদি আপনার বাড়ির বাচ্চাও অনলাইনে গেম খেলে তবে আপনার সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেক দিন ধরেই অনলাইন গেমের কারণে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা চুরির কথা শোনা যায়। এবার এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের এলাকায় যেখানে এক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর ছেলে অনলাইন গেমের চক্করে প্রায় 3.22 টাকা চুরি করে নিয়েছে।
ওই মহিলার 12 বছর বয়সী ছেলে অনলাইন গেম ফ্রি ফায়ার খেলছিল। পাবজি মোবাইলের মতোই এই গেমটিও বর্তমানে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই গেমটি খেলার সময় এই কিশোর গেমে আপডেটের সঙ্গে আসা নতুন অস্ত্র কেনার জন্য 3 লক্ষ 22 হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছে, যা পরে অবিভাবকদের নজরে আসে।

আসেনি টাকা কেটে নেওয়ার SMS
ওই মহিলা টাকা তোলার জন্য এটিএম কাউন্টারে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে মাত্র 9 টাকা পড়ে আছে। তখন তিনি সময় নষ্ট না করে সোজা পুলিশের কাছে গিয়ে অনলাইন ফ্রডের অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি আরও বলেন টাকা কেটে নেওয়ার জন্য কোনো এসএমএস বা ওটিপি কিছুই তিনি পাননি। পুলিশ ও ব্যাঙ্ক কর্মী সবাই শুনে আবাক হয়ে যান যে ওটিপি ছাড়া কিভাবে টাকা কেটে গেল।
ব্যাঙ্ক থেকে হয়েছে 278 বার ট্রানজংকশন
তদন্ত করতে গিয়ে জানা গেছে 8 মার্চ থেকে 10 জুনের মধ্যে অর্থাৎ 3 মাসে ওই মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে 278 বার ট্রানজংকশনের মাধ্যমে মোট 3 লক্ষ 22 হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আরও জানা যায় গেম খেলা এবং গেমের লেভেল আপগ্ৰেডের জন্য এই টাকা খরচ করা হয়েছে। এরপর পুরো ঘটনা ওই মহিলার কাছে জলের মতো পরিস্কার হয়ে যায় এবং তিনি বুঝতে পারেন তাঁর ছেলে অনলাইনে গেম খেলার চক্করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে।
তিনি তাঁর 12 বছরের ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে স্বীকার করে নেয় সে ফ্রি ফায়ার গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। গেমে মত্ত হওয়ার পর যখন বিভিন্ন অস্ত্র কেনার শখ হয় তখন সে তাঁর মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ফোন নাম্বার ব্যবহার করে এই টাকা খরচ করেছে।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন










