অনলাইন গেমিঙের নেশায় প্রাণ হারালো তিন বোন! কোরিয়ান টাস্ক গেমের চক্করে আত্মহত্যা

মোবাইল গেমের নেশা মানুষের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে সেই বিষয়ে গাজিয়াবাদে একটি হাড় হিম করা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গাজিয়াবাদে অনলাইন গেমিঙের নেশায় তিন কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। এই তিন কিশোরী সম্পর্কে বোন এবং এরা এক সঙ্গে টাস্ক বেসড কোরিয়ান গেম খেলত। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এই গেমের কারণেই তিনজন একটি বহুতলের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

গাজিয়াবাদ জেলার সাহিবাবাদ অঞ্চলের ভারত সিটি সোসাইটি থেকে এই ভয়াবহ ঘটনার কথা উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এই এলাকায় যথাক্রমে 16, 14 এবং 12 বছর বয়সী তিন বোন বাস করত। পুলিশি বয়ান থেকে কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ বা গেমের নাম জানা যায়নি, তবে কিছু খবর অনুযায়ী এই তিন বোন ‘Korean Love Game’ নামক একটি টাস্ক বেসড কোরিয়ান গেম খেলত। এই গেমে “50 দিন-50 টাস্ক” কনসেপ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে, অর্থাৎ এতে প্রতিদিন একটি করে নতুন টাস্ক সম্পূর্ণ করতে হয়।

এই তিন বোন বেশ কিছু দিন ধরে এই গেম খেলছিল এবং 50তম অর্থাৎ শেষ টাস্ক সম্পূর্ণ করার জন্য তাঁরা বিল্ডিংয়ের নবম তলা থেকে লাফ দিয়েছিল। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। অনলাইন গেমের নেশাকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে এই তিন নাবালিকা তাদের প্রাণের পরোয়া না করেই আত্মহত্যা করেছে।

ডিসিপি নিমিষ পাটিল এবং এসিপি অতুল কুমার এই কিশোরীদের ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন। এই কিশোরীরা যেখান থেকে এই ‘কোরিয়ান লাভার গেম’-এর খোঁজ পেয়েছে বর্তমানে সেই লিঙ্কের খোঁজ করা হচ্ছে। এক‌ই সঙ্গে “কন্ট্রোলার” অর্থাৎ সেই ব্যাক্তির খোঁজ‌ও করা হচ্ছে যে এদের এই গেম খেলার জন্য এবং টাস্ক সম্পূর্ণ করার জন্য প্ররোচিত করেছিল। এখন জোরকদমে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Korean love Game কী?

কোরিয়ান লাভ অনলাইন গেম ‘We Are Not Indians, We Are Koreans’ নামেও পরিচিত। এই গেম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ম্যাসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই গেমে ভার্চুয়াল লাভার বা পার্টনার বাছাই করতে হয় এবং এতে নিজেকে একজন কোরিয়ান ছেলে বা মেয়ে হিসাবে পরিচয় দেওয়া হয়। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা দিয়ে শুরু হয়, প্রধানত বন্ধুত্ব ও প্রেম সংক্রান্ত কথাবার্তা বলা হয়। চ্যাটিং কিছুটা এগিয়ে গেলে গেম পার্টনারকে কিছু সহজ টাস্ক বা কাজ করতে বলা হয়।

প্রথমদিকে কিছু লাভ লাইন লেখা বা ফটো শেয়ার করার মতো টাস্ক করতে হয়। এরপর ক্রমশ গেম টাস্ক কঠিন এবং বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী গেমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এইসব টাস্ক সম্পূর্ণ করতে হবে এবং কোনো প্লেয়ার নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করলে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। এর ফলে ছোটদের ওপর মানসিক চাপ পড়াই স্বাভাবিক।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় তরুণরা বিশেষভাবে টিন‌এজার এবং ছোটরা ক্রমশই কোরিয়ান কালচার, K-Pop এবং K-Drama এর ভক্ত হয়ে উঠছে। এই কারণে খুব সহজেই কম বয়সীরা কোরিয়ান কালচার ইন্সপায়ার গেমের টার্গেট হয়ে পড়ে। অবুঝ ছোটরা নিজেদের কোরিয়ান লাভার বলে মনে করে এবং গেমে অপরদিকের ব্যাক্তিকে কোনো রাজকুমার বা রাজকুমারী ভেবে বসে। সব দিক থেকেই কোরিয়ান কালচারের গেম ভারতীয় তরুণদের কাল্পনিক জগতে ঠেলে দেয় এবং এর প্রভাব নিঃসন্দেহে যথেষ্ট খারাপ।

তিন বোনের এক সঙ্গে আত্মহত্যা কোরিয়ান কালচারের কুপ্রভাবের একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। ছাদ থেকে লাফ দেওয়াই হয়তো এই কিশোরীদের শেষ টাস্ক ছিল। মনে করিয়ে দিই আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে Blue Whale নামক একটি অনলাইন গেম শিরোনামে উঠে এসেছিল, যেখানে গেমারদের টাস্কের নামে নিজেদের ক্ষতি করতে বাধ্য করা হত।

LEAVE A REPLY
Please enter your comment!
Please enter your name here