6 মাসের মধ্যে বন্ধ হতে পারে 35-40 হাজার মোবাইলের দোকান, জেনে নিন কারণ

প্রথমে করোনা এবং এখন ভারত-চীন সীমান্তে সৃষ্টি হ‌ওয়া উত্তেজনার ফলে অত্যন্ত সমস‍্যার মুখে পড়ছে মোবাইল রিটেইলাররা। আমাদের সোর্স থেকে পাওয়া খবর যদি সত্যি হয় তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় 35 থেকে 40 হাজার মোবাইলের দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর পেছনে করোনার অত্যন্ত বড় ভূমিকা রয়েছে এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু মোবাইল ফোন নির্মাণকারীদের‌ও যে বড় হাত রয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। এই বিষয়ে অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেইল অ্যাসোসিয়েশন (AIMRA) এর ন‍্যাশানাল প্রেসিডেন্ট, অরবিন্দ খুরানা বলেছেন, “মোবাইল নির্মাণকারী কোম্পানি অনলাইন এবং অফলাইন ক্ষেত্রে যথেষ্ট পার্থক্য করে যার ফলে ভারতীয় মোবাইল রিটেইলারদের ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। একদিকে করোনার জন্য বেশ কিছু দিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে আবার অন‍্যদিকে মোবাইল নির্মাণকারী কোম্পানিগুলি এখন রিটেইলারদের জন্য ফোন আনছে না। এর মূল কারণ হল করোনার ফলে যথেষ্ট পরিমাণে মোবাইল প্রোডাকশন হচ্ছে না আবার যেটুকু হচ্ছে তা অনলাইন প্ল‍্যাটফর্মের মাধ্যমে সেল করা হচ্ছে। অন‍্যদিকে অফলাইন রিটেইলারদের শুধুমাত্র সাপ্লাইয়ের অপেক্ষায় দিন গুনতে হচ্ছে।”

তিনি আর‌ও বলেন যে, “অনলাইনে ফোন বিক্রি করলে ব্র‍্যান্ডের বেশি লাভ হয় কারণ অনলাইন সেলারদের মার্জিন দিতে হয় না তারা জিএমপিতে কাজ করে। তাই কোম্পানিগুলি অনলাইনে সেল করছে। আবার করোনার প্রভাবে অফলাইনের মার্জিন‌ও আগের চেয়ে কম হয়ে গেছে। এইসব কারণে রিটেইলারদের অবস্থা যত দিন যাচ্ছে ক্রমশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে। এখনই যদি এই বিষয়ে সঠিকভাবে নজর না দেওয়া হয় তবে আগামী 6 মাসের মধ্যে 35-40 হাজার মোবাইলের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।”

মোবাইল কোম্পানিগুলির ওপর এই ধরনের অভিযোগ আগেও উঠেছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে বহুগুণ খারাপ তাই আশা করা হচ্ছে এবার প্রতিবাদ‌ও বেশি হবে। আমরা এবিষয়ে যখন বিভিন্ন রিটেইলারদের সঙ্গে কথা বলি তারাও তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। দিল্লির এক মোবাইল রিটেইলার জানিয়েছেন, “যাকে সবাই এক নাম্বার ব্র‍্যান্ড বলে চেনে গত তিন মাসে আমরা তাদের থেকে কোনো স্টক পায়নি। তবে এমন লোকের অভাব নেই যারা রেডমি নোট 9 প্রোয়ের বদলে মি 10 বেচতে আসে এবং মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ বেচার চেষ্টা করে। কিন্তু হাই ডিম‍্যান্ডের ফোনগুলি দোকানে পাঠানো হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেছেন, “এই অবস্থা শুধুমাত্র শাওমির নয়, রিয়েলমিসহ আরও কিছু ব্র‍্যান্ডের‌ও একই দশা। রিটেইল স্টোরে ফোন পাঠানোর বদলে অনলাইনে বেচে দেওয়া হচ্ছে। অন‍্যদিকে রিয়েলমি এক ইউনিট ফোন দিয়ে তার সঙ্গে বেশ কিছু অ্যাক্সেসরিজ পাঠাতে চায়।”

অন‍্যদিকে করোলবাগের এক রিটেইলার বলেন, “আমি শাওমি এবং রিয়েলমি উভয় কোম্পানির ফোন বিক্রি করি কিন্তু আজ আমার কাছে কোনো ডিভাইস নেই। পাশের গফ্ফর মার্কেটে চলে যান, দেখবেন অনলাইন থেকে ফোন আনিয়ে ব্ল‍্যাকে সেল করছে। অথচ আমরা পাচ্ছি না। সত্যিই বেশ কিছু মোবাইলের দোকান যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়ছে এবং হয়তো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বহু দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।”

রাজস্থানের এক রিটেইলার বলেন, “অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। যেইসব ফোনের ডিম‍্যান্ড আছে সেগুলি পাওয়া যাচ্ছে না আর যেগুলির কেউ খোঁজ পর্যন্ত করে না সেগুলি জোর করে রিটেইলারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে ভিভোর অবদান অনস্বীকার্য, কোম্পানি অফলাইন রিটেইলারদের খেয়াল যেমন রাখছে তেমনই প্রয়োজন মতো ফোন‌ও পাঠাচ্ছে। আপাতত এই কোম্পানিই অফলাইন রিটেইলারদের বাঁচিয়ে রেখেছে।”

এই ধরনের অভিযোগ আমরা আগেও পেয়েছি। তবে অল ইন্ডিয়া মোবাইল রিটেইল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই ধরনের অভিযোগ আসা কোনো মামুলি কথা নয়। আগেও এই সংস্থা অফলাইন রিটেইলারদের জন্য লড়ে গেছে কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সত্যিই চিন্তার কারণ। কারণ 35-40 হাজার ফোনের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়া মুখের কথা নয়।

মোবাইল কোম্পানিগুলির উচিত অনলাইন ও অফলাইন ক্ষেত্রে বেশি পার্থক্য তৈরি না করা। কম মার্জিন দিয়ে হলেও অফলাইনে ফোন বেচার ব‍্যবস্থা করা দরকার। প্রোডাকশন কম হলে অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্ল‍্যাটফর্মে ফোন কিছু কিছু পরিমাণে ভাগ করে দেওয়া উচিত। কারণ ভারতে মতো মোবাইল মার্কেটে অফলাইন রিটেইলাররাই মূল নির্ধারক।

LEAVE A REPLY
Please enter your comment!
Please enter your name here