5G এর পরে কি বন্ধ হয়ে যাবে 4G পরিষেবা? জেনে নিন ডিটেইল

শীঘ্রই ভারতে 5G পরিষেবা এন্ট্রি নিতে চলেছে। 5G স্পেকট্রাম নিলামের প্রসেস শুরু হয়ে গেছে যা কয়েকদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে এবং হয়তো আগামী মাস থেকে 5G প্ল্যান আসতে শুরু করবে। একবার 5G পরিষেবা চালু হলে, ধীরে ধীরে এই পরিষেবাটি সারা দেশে ছডিয়ে যাবে। তবে বর্তমানে এই 5G পরিষেবা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। যেমন 5G প্ল্যানের দাম কেমন হবে, কিভাবে সিম পাবেন এবং কবে থেকে এই সার্ভিস শুরু হবে, ইত্যাদি। কিন্তু এই সবকিছু ছাড়াও, আরেকটি খুব মজার প্রশ্ন হল যে ভারতে যখন 5G পরিষেবা আসবে, তখন 4G-এর কী হবে? 4G পরিষেবা কি বন্ধ হয়ে যাবে নাকি চলবে? তবে 4G এর কি হবে সেটা বলার আগে 3G কে নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। কারণ 4G এর কাহিনি শুরু এখান থেকেই৷

4G আসার পর 3G এর কি হল?

বর্তমানে 5G নিয়ে যে ধরনের আলোচনা চলছে, একসময় 4G পরিষেবা নিয়েও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল এবং তার আগে 3G নিয়েও একই রকম উন্মাদনা ছিল। 4G পরিষেবা শুরু হওয়ার পর 3G এর কি হলো? কোথায় গেল 3G ফোন? অনেকেরই প্রশ্ন ভারতে বর্তমানে 3G পরিষেবা কোথায় পাওয়া যায় এবং কারা এটি ব্যবহার করছে? আপনাদের জানিয়ে রাখি যে প্রাইভেট সেক্টর এ 3G পরিষেবা শেষ হয়ে গেছে। Airtel, VOdafone-Idea Idea-এর মতো বেসরকারি কোম্পানিগুলো তাদের 3G পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। Jio-এর কাছে 3G পরিষেবা কখনও ছিল না। কোম্পানি 4G এর সাথেই ভারতে এন্ট্রি নিয়েছিল।

বর্তমানে ভারতে 3G পরিষেবা শুধুমাত্র BSNL এ আছে। টেলিকম পরিষেবার জন্য, সারা দেশে 22টি সার্কেল তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে দিল্লি এবং মুম্বাই ছাড়া, BSNL-এর অন্য সমস্ত সার্কেলে পরিষেবা রয়েছে, যেখানে কোম্পানি শুধুমাত্র 3G সার্ভিস প্রদান করছে। এই পরিস্থিতিতে, আপনি যদি 3G পরিষেবাতে শিফট করতে চান, তাহলে আপনাকে BSNL এ যেতে হবে।

অন্যদিকে, প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর সম্পর্কে আমরা যতদূর জানি, Airtel 2019 সালেই 3G পরিষেবা বন্ধ করার ঘোষণা করেছিল। 2021 সালের মধ্যে ভোডাফোন-আইডিয়ার 3G পরিষেবাও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও পুরো পরিষেবাটি একবারে বন্ধ করা হয়নি, তবে এটি ধীরে ধীরে বন্ধ করা হয়েছিল এবং এর জন্য গ্রাহকদেরও জানানো হয়েছিল যাতে তারা 4G নেটওয়ার্কে স্থানান্তরিত হয়। এই পদ্ধতির পরে, কোম্পানি গুলো এই পরিষেবাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়। কারণ 2G এবং 4G এর সাথে তারা নেটওয়ার্কের অতিরিক্ত লোড বহন করতে চায়নি এবং 3G গ্রাহকও অবশিষ্ট ছিল না। আর এভাবেই ভারতের কোনো বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিতে 3G পরিষেবা অবশিষ্ট নেই, যার ফলে মার্কেট থেকে ধীরে ধীরে 3G ফোনগুলোও উধাও হয়ে গেছে।

5G এর পরে 4G এর কি হবে?

আমরা 3G এর অবস্থা দেখেছি, এখন 4G এর পালা। আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি যে 4G পরিষেবা আপাতত এখানেই থাকবে। এটা এখন বন্ধ হবে না। কারণ 5G পরিষেবা আসতে এবং এর সম্প্রসারণে দীর্ঘ সময় লাগবে।

5G নিলাম প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে। এটি এখনও চালু করা হয়নি। এটি চালু হলেও 4G এর মতো সারা দেশে একযোগে আসবে না। সেটা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। ছোট গ্রাম ও শহরে 5G পরিষেবা পৌঁছাতে 2-3 বছর লাগতে পারে বা সেখানে হয়তো নাও আসতে পারে।

4G পরিষেবার দ্রুত বিস্তারের কারণ ছিল JIO। অন্যথায় এই পরিষেবাটিও খুব সময়সাপেক্ষ ছিল। Airtel 2014 সালে তাদের 4G পরিষেবা চালু করেছিল। এরপর ভোডাফোনও এই ক্ষেত্রে এন্ট্রি নেয়। এমনকি 2016 পর্যন্ত, তাদের পরিষেবা শুধুমাত্র কয়েকটি নির্বাচিত শহরে উপলব্ধ ছিল এবং বেশিরভাগ ইউজাররা এটি সম্পর্কে অবগতও ছিলেন না। কিন্তু 2016 সালে Jio ভারত জুড়ে ফ্রি পরিষেবা সহ তাদের 4G নেটওয়ার্ক চালু করেছিল এবং ইউজাররা 4G এর আসল শক্তি জানতে পেরেছিলেন। যার ফলে দোকানগুলিতে লম্বা লাইন তৈরি হতে শুরু করে এবং সবাই Jio সিমের জন্য অপেক্ষা করতে শুরু করে। এমন সময় এক প্রকার বাধ্য হয়ে এয়ারটেল এবং ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো কোম্পানি গুলো কম দামে ভারত জুড়ে তাদের 4G পরিষেবা শুরু করেছিল।

কিন্তু এবার Jio বা অন্য কোনও সংস্থা এত বড় ঝুঁকি নেবে না। কোনও অপারেটর সারা দেশে একযোগে 5G পরিষেবা চালু করতে চাইছে না। এর পাশাপাশি 5G পরিষেবাও ব্যয়বহুল হতে চলেছে। শুরুতে এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের থেকে দূরে থাকবে। তাই বলা যায় যে আপাতত ফোরজি পরিষেবা বন্ধ হচ্ছে না। হ্যাঁ, দুই বছর পর যদি মানুষের হাতে 5G ফোন চলে আসে, তাহলে এই সার্ভিস বন্ধ করার চিন্তাভাবনা 3G পরিষেবার মতোই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোবাইল টেলিকম কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে চাইবে না এবং ইউজারদের সামনে নতুন টেকনোলজি নিয়ে আসতে চাইবে যার জন্য তারা অর্থ ব্যয় করছে। তবে 4G পরিষেবা যেমন আছে, তেমনই থাকবে।

2G পরিষেবা বন্ধ হবে না

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল 3G বন্ধ হয়ে গেলেও, এবং 4G পরিষেবা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আমরা কয়েক বছর পর একইভাবে 5G নিয়ে কথা বলব, কিন্তু ভারতে 2G পরিষেবা চালু আছে এবং আগামী সময়েও একই ভাবে চালু থাকবে। এর কারণ হল আজও ভারতে ফিচার ফোন ইউজারের সংখ্যা অনেক বেশি, যদিও এখান থেকে অপারেটররা অনেক কম রাজস্ব পায়, তবুও নম্বর দেওয়ার জন্য এটা খুব দরকারী এবং কোনও অপারেটর 2G পরিষেবাকে ছাড়তে রাজি নয়।

আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY
Please enter your comment!
Please enter your name here