Reliance Jio, Airtel এবং Vodafone Idea কিছু দিন আগেই তাদের মোবাইল রিচার্জ প্ল্যানের দাম বাড়িয়েছে। এই তিনটি বেসরকারি টেলিকম কোম্পানি ক্রমাগত তাদের ট্যারিফ প্ল্যানকে ব্যয়বহুল করে ভারতীয় গ্রাহকদের বড় ধাক্কা দিয়েছে। সুবিধা একই হলেও বেড়ে যাচ্ছে রিজার্চ প্ল্যানের দাম, সাধারণ মানুষও একপ্রকার বাধ্য হয়েই এই অতিরিক্ত বোঝা টেনে যাচ্ছে। অনিচ্ছা সত্বেও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। Jio, Airtel এবং Vi-এর মতো বেসরকারী টেলিকম সংস্থাগুলির স্বেচ্ছাচারিতায় বিপর্যস্ত, ভারতীয় মোবাইল ব্যবহারকারীরা বর্তমানে একটি সস্তা এবং ভাল বিকল্পের আশায় অনেকেই BSNL এর দিকে ঝুঁকছেন । অনেকেই সরকারি টেলিকম কোম্পানি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড অর্থাৎ BSNL এর গ্রাহক হতে চাইছেন, কিন্তু তারপরেও বেশ কিছু কারণ বশত তারা পিছিয়ে আসছেন।
এত অফার দেওয়ার পরেও কোনদিকে পিছিয়ে আছে BSNL? এখন এমনই কিছু
বৈশিষ্ট্যের কথা জানাবো, যেগুলো সম্পর্কে আরও গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতে BSNL এর গ্রাহক সংখ্যা নিশ্চিত ভাবেই অনেকাংশে বেড়ে যাবে।
1. সমস্যা সমাধানে গাফিলতি
BSNL কোম্পানির যেই বিষয়টি নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি চিন্তিত তা হল কোম্পানির দুর্বল পরিষেবা। এখানে আমরা নেটওয়ার্ক বা সিগন্যাল পরিষেবার কথা বলছি না, বরং আমরা ব্যবহারকারীদের অভিযোগ করার পরেও সেই সমস্যার সমাধানে গাফিলতির কথা বলছি। BSNL ব্যবহারকারীদের মতে , কোনো কারণে কোম্পানির টাওয়ার, খুঁটি, তার বা অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে সেগুলো মেরামত করতে অনেক সময় লেগে যায়। বারবার অভিযোগ করলেও BSNL কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
2. দুর্বল কভারেজ
অনেক BSNL ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন যে তাদের এলাকায় কোম্পানির নেটওয়ার্ক কভারেজ খুবই কম। মূলত বেশিরভাগ ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চল থেকে এই ধরনের অভিযোগ উঠে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায়, এই গ্রাহকরা বলেছেন যে তাদের এলাকায় BSNL সিগন্যাল খুব কম পাওয়া যায়। দুর্বল নেটওয়ার্ক কভারেজের কারণে কলিং এ সমস্যা দেখা দেয়। সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার কারণে, বারবার ফোন কেটে যাওয়া বা ফোন করলেও ফোন না যাওয়া, ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এইজন্য ব্যবহারকারীদের দাবি যে BSNL অনুন্নত এই নেটওয়ার্ক তারা একেবারেই সন্তুষ্ট নয়।
3. ধীর গতির ইন্টারনেট পরিষেবা
নেটওয়ার্ক কভারেজের অভাবের মতোই, অনেক এলাকায় BSNL -এর ইন্টারনেটের গতিও খুব ধীর হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে ব্যবহারকারীরা বিরক্ত হয়ে যায়। যেখানে Jio, Airtel এবং Vodafone Idea-এর মতো সংস্থাগুলি 5G নেটওয়ার্ক এবং সুপার ফাস্ট 5G ইন্টারনেটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে সারা দেশে BSNL ব্যবহারকারীরা এখনও 4G নেটওয়ার্কই পাননি৷ BSNL 3G এর সাহায্যে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানো খুব কঠিন। ব্যবহারকারীদের মতে, বর্তমানে BSNL এর 3G স্পিডও সঠিকভাবে কাজ করছে না।
4. কর্মচারীদের উদাসীনতা
অনেক ভারতীয় মোবাইল ব্যবহারকারী আছেন যারা বিশ্বাস করেন যে এই টেলিকম কোম্পানির পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হল BSNL কর্মচারীদের উদাসীনতা। কোম্পানির কর্মীরা পুরানো প্যাটার্নেই কাজ করছে এবং BSNL ইউজাররা অভিযোগ করেছে যে BSNL এর কর্মচারীরা গ্রাহকদের চাহিদা এবং সুবিধার বিষয়ে চিন্তিত নয়। বহু আবেদন জমা দেওয়ার পরেও BSNL কর্মীরা সেই বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয় না। BSNL কর্মচারীরা যদি তাদের মনোভাব এবং কাজের ধরন উন্নত করে তবে কোম্পানির পরিষেবাও উন্নত হবে।
5. সরকারী পলিসি
Reliance Jio, Airtel এবং Vodafone Idea র মতো টেলিকম সংস্থাগুলির সামনে BSNL অনেক পিছিয়ে আছে। দেশে 5G আসতে চলেছে কিন্তু BSNL এখনও দেশব্যাপী 4G পরিষেবা দিতে অক্ষম। জনগণও এর কৃতিত্ব সরকারকেই দিচ্ছে। অনেকের মতেই BSNL সরকার দ্বারা অবহেলিত হয়েছে এবং কোম্পানি যখন প্রয়োজন তখন সাহায্য পায়নি। সম্প্রতি, ভারত সরকার BSNL-কে 44,720 কোটি টাকা সাহায্যের ঘোষণা করেছে। সাধারণ মানুষ বলছে, সরকার সাহায্য করছে, এটা ভালো, কিন্তু এই পদক্ষেপ যদি আগে নেওয়া হতো, তাহলে আজ দেশের সরকারি টেলিকম কোম্পানি BSNL -এর এই দুর্দশা ঘটত না।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন













