আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনের টেকনোলজি সম্পর্কে কথা উঠলে প্রায় দিনই নতুন নতুন শব্দ শোনা যাবে। বিশেষ করে ক্যামেরা টেকনোলজি প্রসঙ্গে আলোচনা হলে তো আর কথাই নেই। এই সেগমেন্টে এত শব্দ আছে যে সাধারণ মানুষ তো মাঝে মধ্যে কনফিউজড হয়ে যায়। মেগাপিক্সেল, সেন্সর, অ্যাপার্চার, শাটার স্পীড, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, ম্যাক্রো, নাইট এবং আরও কত কিছু। কিন্তু আজকাল একটি শব্দ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে, OIS অর্থাৎ Optical Image Stabilization (অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন)। কিন্তু আপনি কি জানেন OIS কি? অথবা এই OIS টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে? চলুন আজ এই নতুন টেকনোলজি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। আরও পড়ুন: Jio এর দুর্দান্ত অফার, প্ল্যানের সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে 40GB ডেটা
OIS কি?
ফোটোগ্রাফির সময় হাত সামান্য নড়লেও ছবি নষ্ট হয়ে যায়। সাধারণ টেকনিক্যাল ভাষায় বললে ফোটো Blur (ব্লার) হয়ে যায়। মোবাইল ফোটোগ্রাফির ক্ষেত্রে যেখানে বলতে গেলে সব সময়ই ফোন হাতে নিয়ে ছবি তোলা হয় তাই এক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ট্রাইপডের তুলনায় হাতে ধরে ছবি তুললে ফোটো ব্লার হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। অন্ধকারে অথবা জুম করে ছবি তুললে তো এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। OIS এমন এক টেকনোলজি যা হাত নড়লেও স্বচ্ছ এবং পরিস্কার ছবি ও ভিডিও তুলতে সাহায্য করে। এটি স্টেবিলাইজেশন অর্থাৎ স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
OIS সম্পর্কে বলার আগে প্রথমেই বলে রাখি OIS এর পুরো কথাটি হল Optical Image Stabilization (অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন)। অত্যন্ত সহজ করে বোঝালে এটি মূলত একটি হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি। এটি এমন একটি টেকনোলজি যা অকারণে ক্যামেরা নড়ার ফলে ফিজিক্যালি নড়ে সেই মুভমেন্ট অ্যাডজাস্ট করতে সাহায্য করে। আপনি হয়ত এখন ভাবছেন বাস্তবে ক্যামেরা সত্যি মুভ করে? আজ্ঞে হ্যাঁ, OIS ক্যামেরায় এই ধরনের ফাংশন থাকে যা অল্পস্বল্প নাড়াচাড়া নিজে থেকে নড়ে অ্যাডজাস্ট করতে পারে।
ফটোগ্রাফির ওপর OIS এর প্রভাব
এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় রাতে ফোটোগ্রাফির সময়। আমরা সবাই জানি ক্যামেরা আলোর ছবি ধরে রাখে। রাতে আলো কম থাকার কারণে ছবি ক্যাপচার হতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। অথচ এই বেশি সময়ের মধ্যে হাত নড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে OIS ফিচার মুভমেন্ট অ্যাডজাস্ট করে সুন্দর ছবি তুলতে সাহায্য করে। আরও পড়ুন: দেখে নিন Netflix-এর সেরা কিছু ফিল্মের তালিকা
OIS এ একটি ছোট জায়রোস্কোপ থাকে যা হাতের মুভমেন্ট ডিটেক্ট করে ক্যামেরাকে উল্টো দিকে নিয়ে যায়। এতে একটি এক্সটুবেটার অর্থাৎ মোটর লাগানো থাকে যা রিয়েল টাইম হাতের মুভমেন্ট ডিটেক্ট করে সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা অ্যাডজাস্ট করে। ইউজারের হাত নড়ে নিচের দিকে গেলে ক্যামেরা ওপরে সাবজেক্টে ফোকাস রাখে এবং হাত ডানদিকে নড়লে ক্যামেরা বাঁদিকে ঘুরবে। এইভাবেই OIS ইউজারের ক্যাপচার করা ইমেজ ও ভিডিওকে যথেষ্ট স্টেবল করে তোলে।
OIS এর ক্যাপাবিলিটি প্লাস/মাইনাসের মাধ্যমে মাপা হয়। উদাহরণস্বরূপ কোনো OIS 17 ডিগ্রি অথবা 20 ডিগ্রি +/- স্টেবিলাইজেশন অ্যাডজাস্ট করতে পারে। ফোনের ওপর নির্ভর করে তার ক্ষমতা আলাদা আলাদা হয়। উল্লেখ্য OIS শুধুমাত্র ছোটখাটো মুভমেন্ট অ্যাডজাস্ট করতে সক্ষম, কোনো বড় ধরনের ঝাকুনি নয়।
OIS ও EIS এর পার্থক্য
আগেই জানিয়েছি OIS এর পুরো কথা Optical Image Stabilization এবং এটি একটি হার্ডওয়্যার নির্ভর টেকনোলজি। এর জন্য ফোনে আলাদাভাবে কিছু পার্টস লাগানো হয় যা ইমেজ ও ভিডিও স্টেবল করে। আরও পড়ুন: 4G SIM-এ 5G সার্ভিস কিভাবে পাওয়া যাবে? জেনে নিন পদ্ধতি
অন্যদিকে EIS এর পুরো কথা Electronic Image Stabilization যা সফটওয়্যারের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এক্ষেত্রে স্মার্টফোন কোম্পানি কোনো হার্ডওয়্যার নয় বরং সফটওয়্যারের সাহায্যে ছবি ও ভিডিও স্টেবল করতে সাহায্য করে।
এই দুই টেকনোলজির তুলনা করলে OIS সব সময় এক কদম এগিয়ে থাকবে। আজকাল মোবাইল ফোটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এই দুই টেকনোলজির নামই বারবার উঠে আসে।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
