সেই সময় আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে যখন মোবাইল ফোনে গান শোনার জন্য দোকানে গিয়ে মেমরি কার্ডে গান ভোরতে হতো। কোনো বন্ধুর কাছে কম্পিউটার থাকলে তার ঘরে আড্ডা বসত। টেকনলজি খুব দ্রুতই উন্নতি করেছে আর আছ সবার হাতেই স্মার্টফোন আছে। ফোনে গান বা ভিডিও স্টোর করার দরকার নেই আর এখন সব অনলাইনেই দেখা যায়। আগে যেখানে 4 জিবির কার্ড অনেক বড়ো জিনিস মানা হতো এখন স্মার্টফোনে 64 জিবি স্টোরেজ সাধারণ হয়ে দারিয়েছে। মোবাইল ফোনের সবচেয়ে ছোট মডেলকে 64 জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের সাথে লঞ্চ করা হয় যার দামও কম হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন খুব শীঘ্রই স্মার্টফোনের এই 64 জিবি মেমরিও কম পরতে চলেছে ? এর কারন আমরা আগে বিস্তারিত ভাবে বলেছি কিন্তু এখন এটুকু জেনে নিন যে যদি আপনি 64 জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের ফোন কিনতে চান তাহলে পরবর্তী সময়ে আপনাকে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে।
কোথায় ব্যবহার হয় ফোনের স্টোরেজ
প্রথম থেকে আলোচনা করলে যেকোনো মোবাইল ফোনে ইন্টারনাল স্টোরেজ কোথায় কোথায় কাজে লাগে সেটি জানা প্রয়োজন। স্মার্টফোনটি চালানোর জন্য তার মধ্যে থাকা অপারেটিং সিস্টেমের থাকা খুব অত্যাবশ্যকিয়, আর এখানেই শুরু হয়ে যায় স্টোরেজের ক্ষয়, প্রত্যেকবার অ্যান্ড্রয়েড 11সবচেয়ে লেটেস্ট ওএস আর এর ফাইল কেও ফোনে ডাউনলোড আর ইন্সটল করার জন্য ইন্টারনাল স্টোরেজের ব্যবহার পরে। এরপরে আজকাল প্রত্যেক ব্র্যান্ড নিজের ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করছে যা তাদের ফোনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এই ইউআই এর জন্য ফোনে মেমরির ব্যবহার জরুরি হয়ে যায়। এভাবেই ফোনে অ্যাপ ইন্সটল থেকে শুরু করে তার ব্যবহার আর ক্যামেরা এর কাজ সবকিছুতে ফোন স্টোরেজের ব্যবহার হয়।
কিভাবে কম পরবে 64GB স্টোরেজ
প্রসিদ্ধ রিসার্চ ফর্ম কাউন্টারপয়েন্ট গত কিছু দিনের মধ্যে নিজের একটি রিপোর্টে শেয়ার করেছে যার হিসেবে গত বছর অর্থাৎ 2020 তে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে গড় স্টোরেজ ক্যাপাসিটি 100জিবি ঘর ছুয়েছে। অর্থাৎ একটি মোবাইল ইউজার গড় হিসেবে প্রতি 100 জিবির থেকে বেশি ডাটা ফোনে স্টোর করে। আবার এই বছরের শেষে এই স্টোরেজ ক্যাপাসিটি আরো বাড়তে চলেছে। রিপোর্টের হিসেবে আগামী দিনে স্মার্টফোনে 64 জিবি ভেরিয়েন্ট ব্যবহার এর জন্য কম মানা হবে আর এর স্টোরেজ ক্যাপাসিটি স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য ছোটো প্রমাণিত হবে। এটি বলা ভুল হবে না যে আগামী সময়ে হতে পারে স্মার্টফোনে 64জিবি স্টোরেজ ভেরিয়েন্ট নাও দেখা যেতে পারে।
কেনো ভরে যায় এতো স্টোরেজ
1. ক্যামেরা এর কারনে
আজ লো বাজেটের স্মার্টফোনেও 48 মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি সেন্সর আসছে আর এই সময়ে স্মার্টফোন মার্কেটে এরকম ডিভাইসের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। বড়ো সেন্সর থেকে ক্লিক করা ফোটোগ্রাফ আর ভিডিও এর ফাইলও বড়ো সাইজের তৈরি হয়। আপনি নিজের ফোনে চেক করলে একটি সিঙ্গেল ফোটোর সাইজ প্রায় 3এমবী থেকে 6এমবি পর্যন্ত দেখতে পাবেন। এভাবেই ভিডিও আর স্লো-মোশন অথবা টাইম ল্যাপ্স এর মতো ফিচার্সে বড়ো সাইজের ফাইল তৈরি করে। আবার যদি ফুলএইচডি থেকে বেশি বা 4k কোয়ালিটি এর ভিডিও বানানোর চেষ্টা করেন তাহলে সেটি সহজেই 1জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ ভরে যায়।
2. গ্যামিং এর শখ
PUBG আর Asphalt রেসিং এর মতো গেমের শখও ফোনের স্টোরেজ এর ক্ষয় করে। যদি আপনিও এইরকম মোবাইলে খেলেন তাহলে আপনি ভালো করেই জানেন যে এই গেমের ফাইল 2জিবির স্টোরেজ নিয়ে নেয়। এভাবেই মোবাইল গেমের ইন্সটল থেকে শুরু করে সেগুলো খেলার সময় তৈরি হওয়া প্রোগ্রাম রিপোর্টও ফোন মেমরিতে নিজের যথেষ্ট জায়গা নেয়। এরকম গেমের ফাইলও ফোন স্টোরেজ ভর্তি হওয়ার বড়ো কারন।
3. অ্যাপের ডিমান্ড
একটি অ্যাভারেজ স্মার্টফোন ইউজার এর ফোনে ডিজিটাল ওয়ালেট, মোবাইল গেম, ভিডিও স্ট্রিমিং, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম আর ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং অ্যাপ থাকেই। কিছু মুখ্য উদাহরণ দিলে তার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউব, পেটিএম থেকে শুরু করে বুট-হটস্টার এর মতো অ্যাপ আর কিছু মোবাইল গেম থাকে। এই আলাদা আলাদা রকমের অ্যাপে নতুন ফিচার বা বাগ ফিক্সিং এর নামে সময়ে সময়ে নতুন আপডেট করতে হয় যা আগে হোক বা পরে ইউজার দের দিয়ে ইন্সটল করানো হয়। এই নতুন আপডেট গুলিও সর্বদাই বিভিন্ন সাইজের হয় আর ফোনের স্টোরেজে নিজের জায়গা নিয়ে নেয়। কিছু অ্যাপকে ডিভাইসে অ্যাক্সেস এর মতো বেশি পারমিশন দেওয়া হয় তাদের ফাইল সাইজও বৃদ্ধি পায়।
4. প্রি-ইন্সটলড সার্ভিস
নতুন ফোন নিয়ে যখন ভালো করে জিমেইল আর অন্যান্য সেটআপ করা হয়ে যায় আর নিজের পছন্দের অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড করে অ্যাক্টিভ করে নিই তারপরে কিছু অ্যাপ বা সার্ভিস নজরে আসে যা আমরা ফোনে ইন্সটলই করিনি। এই অ্যাপ গুলি ফোনে প্রি ইন্সটলড থাকে। এই অ্যাপের সাথেই স্মার্টফোন ব্যবহার এর এক্সপেরিয়েন্সকে আকর্ষক বানানোর জন্য মোবাইল ব্র্যান্ডের এআই সার্ভিসও ফোনে ইন্সটল থাকে যা কাজগুলিকে শর্টকাটে পাল্টায় এবং ফিচার্স নেভিগেট করে। এইরকম সার্ভিসও ফোন স্টোরেজ ভর্তি হওয়ার কারন।
স্মার্টফোনে বর্তমান না ভবিষ্যত দেখুন
এই লাইনটি শুনতে একটু অন্যরকম লাগে কিন্তু এখানে এই লাইনটির মানে হল মোবাইল ফোন আপনার উপস্থিত পরিস্থিতি অনুযায়ী না আগামী দিনের ব্যবহার এর কথা মনে করে পছন্দ করুন। স্টোরেজের কথায় থাকলে তাহলে উপরে বলা পয়েন্ট গুলি অনুযায়ী খুব দ্রুতই আপনার মোবাইল ফোনের স্টোরেজ ভর্তি করে। এরকম অবস্থায় কাউন্টার পয়েন্ট এর রিপোর্ট অনেকটাই সচেতন করে দেয় যে আগামী দিনে 64 জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের ফোন মেমরির ইউজার্স দের ব্যবহার এর হিসেবে কম পরতে পারে। এমতাবস্থায় 128 জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজের ফোন অথবা মাইক্রোএসডি কার্ডের সাপোর্ট থাকা ফোন পছন্দ করাই ভালো।
আমরা চাই যে একবার আপনিও ফোনে এটি চেক করুন আর বলুন যে আপনার ফোনে সবচেয়ে বেশি স্টোরেজ কোন অ্যাপ ব্যবহার করে আর এই স্টোরেজ কত জিবির। আমার ফোনে সবচেয়ে বেলি স্টোরেজ ‘ফোটোজ‘ নিয়েছে যার সাইজ 22.69GB
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন












