বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ভারতের জনজীবন যেন থেমে গেছে। গোটা দেশে এখন লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কাজকর্ম শিকেয় তুলে বাড়িতে বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। মানুষ কীভাবে বাড়ি বসে ইন্টারনেটের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভর হয়ে দিন কাটাচ্ছে সেবিষয়ে আমরা গত সপ্তাহে আলোচনা করেছিলাম। এবার দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সম্পর্কে কিছু অবাক করা তথ্য জানা গেছে। একটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে গত সপ্তাহেই ইন্টারনেট ব্যবহার 30 শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
ইটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে লকডাউন জারি করার পর থেকেই দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ইতিমধ্যে ভারতের ইন্টারনেট খরচ 30 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটুকুই নয়, একদিকের যেমন ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনই আবার এই বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইন্টারনেটের স্পীড কমে গেছে 20 শতাংশ পর্যন্ত।
আরও কমবে ইন্টারনেট স্পীড
রিপোর্ট অনুযায়ী ISPAI অর্থাৎ ইন্টারনেট সার্ভিসেস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গত সপ্তাহে দেশে লকডাউন কার্যকর হওয়ার পর দেশের ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে গিয়েছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে স্পেকট্রামের ওপর চাপও বেড়ে গেছে, ফলে হ্রাস পেয়েছে ইন্টারনেট স্পীড। আপাতত ইন্টারনেট স্পীড 20 শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু এখনও আরও দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে লকডাউন কার্যকর থাকবে এবং সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমবে ইন্টারনেট স্পীড। রিপোর্টে বলা হয়েছে এখনও ইন্টারনেটের স্পীড 25 থেকে 30 শতাংশের চেয়েও কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে ইন্টারনেট স্পীড গড়ে 9 এমবিপিএস থেকে 10 এমবিপিএসের মধ্যে থাকতে পারে।
70 শতাংশ বেড়ে গেছে ইন্টারনেট ব্যবহার
লকডাউনের পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দিয়েছে। বাড়ি বসে কাজ করার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বেশি ইন্টারনেট খরচ হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশে 30 শতাংশ পর্যন্ত বেশি পরিমাণে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হওয়ায় ইন্টারনেট ইউজারের সংখ্যা বেড়ে গেছে প্রায় তিন গুণ। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদের মতো শহরে ইন্টারনেট আগের চেয়ে 70 শতাংশ বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অপ্রয়োজনীয় মিডিয়া ফাইল শেয়ার করবেন না
ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমতে থাকা ইন্টারনেট স্পীডের কথা মাথায় রেখে সমস্ত ইন্টারনেট ইউজারদের অনুরোধ করা হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ও ম্যাসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় মিডিয়া ফাইল শেয়ার করবেন না। ডেটা খরচের হাত থেকে বাঁচার জন্য বিশেষভাবে ভিডিও আদান প্রদান করতে বারণ করা হচ্ছে যাতে স্পেকট্রাম ও নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বৃদ্ধি না পায়।
রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভারতে বর্তমানে 68.76 কোটি ইন্টারনেট ইউজার আছে এবং এদের মধ্যে প্রায় 66.5 কোটি ইউজার ওয়্যারলেস পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ব্যাবহার করেন। স্মার্টফোন, ওয়াইফাই ও ডঙ্গেল এই ক্যাটাগরির অন্তর্গত। আপনাদের জানিয়ে রাখি লকডাউনের পরিস্থিতিতে আমাদের মতো বহু মানুষকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র বাড়ি বসে কাজ নয়, অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যা শুধু অনলাইনেই সম্ভব। তাই একান্ত ভাবে আমরাও অনুরোধ করছি অকারণে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টি করবেন না এবং কোনো সমস্য ছাড়া সবাইকেই ডেটা ব্যবহার করতে দিন।











