করোনা ভাইরাস মহামারির পর থেকে গোটা বিশ্বে রিমোট ওয়ার্কিং এর চলন আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। একইভাবে সাধারণ মানুষ ফিজিক্যাল লেনদেনের বদলে আজকাল অনলাইন ট্রানজংকশনের প্রতি বেশি ঝুঁকছে। কিন্তু মাথায় রাখা দরকার হ্যাকাররাও বসে রয়েছে একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে নিমেষে নিঃস্ব করে দেওয়ার জন্য। এই কারণে এখন অনলাইন স্টক মার্কেটিং করার সময় মেপে মেপে পা ফেলতে বলা হচ্ছে। স্টক মার্কেটিং ও এই ধরনের অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে মাত্র একটি ক্লিকে ট্রেড ও সিকিউরিটি সম্পর্কিত সম্পর্কে সমস্ত তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। এই ধরনের স্ক্যাম 1992 এর Harshad Mehta এর স্ক্যামের চেয়ে যথেষ্ট অ্যাডভান্স ও ভয়ংকর।
ফ্রডের নতুন পদ্ধতি
আজকাল এই ধরনের মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে যারা অনলাইনে ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে চান। কিন্তু হ্যাকাররা তো সাধারণ মানুষের চেয়ে এক কদম এগিয়ে চিন্তা ভাবনা করবেই, তারা তারা আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষের ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায়ই নতুন নতুন গাইডলাইন জারি করা হয় যাতে ইউজাররা ফ্রডের হাত থেকে বাঁচতে পারে। এবার সরকারি টুইটার হ্যান্ডেল সাইবার দোস্ত স্ট মার্কেটে ফ্রডের হাত থেকে বাঁচার জন্য টিপস দিয়েছে।
কি জানিয়েছে হোম মিনিস্ট্রি?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাইবার ডিজনেসের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মেনে চলতে বলেছে। আসলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার সচেতনতা টুইটার হ্যান্ডেল সাইবার দোস্ত এই তথ্য জানিয়েছে। কোনো অচেনা ব্যাক্তি যদি ফোন করে বা ম্যাসেজের মাধ্যমে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় তবে ভুলেও তাঁর কথায় বিশ্বাস করবেন না। মাশুল হিসেবে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
Stock Market Cyber Frauds : Be aware and Be Cyber Safe pic.twitter.com/NvmwOXLGAY
— Cyber Dost (@Cyberdost) April 7, 2021
- স্টক মার্কেট সম্পর্কে কোনো উপদেশ বা তথ্য জানতে সব সময় সেভির সঙ্গে রেজিস্টার্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজারদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- কোনো ধরনের ফ্রড বা জোচ্চুরির শিকার হলে সময় নষ্ট না করে সেবির ওয়েবসাইট www.sebi.gov.in এ জানান।
- এছাড়া সাইবার ক্রাইমের খবর অনলাইনে cybercrime.gov.in সাইটে দেওয়া যায়।
কিভাবে ক্ষতি করছে ফ্রডস্টার?
ইন্টারনেটে প্রায়ই কোনো স্টকের দাম বাড়ানোর ভুয়ো খবর ছড়াতে দেখা যায়। এর জন্য ফ্রডরা ফোন কল বা ম্যাসেজের সাহায্য নেয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্টক ক্রেতার বিভিন্ন তথ্য বের করে নেয়। সেই হিসেবে ফ্রডস্টাররা জোচ্চুরি করে এবং ব্যাক্তিগত তথ্য চুরি করে শিকার করে। এই ধরনের স্টকের দাম বেড়ে যাওয়ার খবর শুনে এক সঙ্গে অনেকে ঘাবড়ে গিয়ে স্টক কিনতে শুরু করে এবং হঠাৎ করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সেই স্টকের দাম বাড়তে শুরু করে। এর ফলে শুরুতে স্টক কোম্পানির দ্রুত লাভ হয়। কিন্তু ভুয়ো কবরের পর্দা ফাঁস হওয়া মাত্র স্টক পড়ে যায়।
নকল স্টকের মাধ্যমেও হয় ফ্রড
ফ্রড করার জন্য অনেক সময় জোচ্চোরের দল বোনাস স্টকের সাহায্য নেয়। বোনাস স্টক মানে যার কোনো অস্তিত্বই নেই কিন্তু তাও এটি বেচা হয়। যতক্ষণে কেউ এই ধরনের স্টকের আসল তথ্য জানতে পারেন তার আগেই তাদের অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়। এর থেকে বাঁচতে হলে কোনো অচেনা ফোন কল বা ম্যাসেজে কোনো মতেই ভরসা করা উচিত নয় এবং না জেনে বুঝে কোনো শেয়ার কেনাও ঠিক নয়।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন











