ভারত যেদিন থেকে 5G এর ট্রায়ালের জন্য অনুমতি পেয়েছে সেদিন থেকেই নানারকমের খবর শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই খবরের মধ্যে গত কয়েক দিনে 5G ট্রায়াল শুরু হওয়ার আগে বলিউড অভিনেত্রী জুহি চাওলা দিল্লি হাইকোর্টে এর বিপক্ষে একটি পিটিশন দায়ের করেছে। এই পিটিশন দায়ের হওয়ার পরে 5G সম্পর্কে লোকেদের মনে একটি ভয় বাসা বেধেছে। কিন্তু দিল্লির উচ্চ বিচারালয় শুক্রবারে 5G রোলআউট এর বিপক্ষে তার পিটিশন বাতিল করে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কোর্ট নিজের সিদ্ধান্তে জুহি চাওলাকে একটি বড়ো ঝাটকা দিয়েছে আর অভিনেত্রীর উপর 20 লাখ টাকার জরিমানা লাগিয়েছে।
কি ছিলো জুহি চাওলার পিটিশন
দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে যে পিটিশন করে অভিনেত্রী আইনের ভুল ব্যবহার করেছে। আপনাকে মনে করিয়ে দিই যে নিজের পিটিশনে জুহি চাওলা বলেছিলেন যে 5G নেটওয়ার্ক এর রেডিয়েশন নাগরিক, পশুপাখি, গাছপালা আর সব জীবের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব পরবে। জুহি চাওলা অনেকদিন ধরেই টেলিকম কোম্পানি গুলির টাওয়ার থেকে বেড়ানো ক্ষতিকারক রেডিয়েশনের বিপক্ষে লোকদের জানানোর কাজ করে যাচ্ছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত কি
আদালত বলেছে যে পিটিশন “দোষপূর্ন”, “আইনত প্রক্রিয়ার অপব্যবহার” আর “প্রচার পাওয়ার জন্য” দায়ের করা হয়েছে। জাস্টিস জে আর মিড্ডা বলেছেন যে পিটিশন দায়ের করা চাওলা আরো দুইজন আইনের অপব্যবহার আর আদালতের সময় নষ্ট করেছে। এর সাথেই জুহি চাওলার উপরে কোর্ট 20 লাখ টাকার জরিমানা লাগিয়েছে। এটুকুই না কোর্টের সুনানির ভিডিও লিঙ্ক অভিনেত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে শেয়ার করায় কোর্টের কাছে কঠোর ভাষায় তিরস্কার শুনতে হয়েছে তাকে।
জুহি চাওলা পিটিশনে কি বলেছিল
জুহি চাওলা নিজের পিটিশনে বলেছেন যে 5G টেকনোলজি চালু করার আগে এর সম্পর্কিত সমস্ত রিসার্চে খেয়াল করা উচিৎ। যদি 5G নেটওয়ার্ক এর জন্য টেলিকম বিভাগের যোজনা সফল হয় তাহলে পৃথিবীতে এমঞ কোনো ব্যক্তি, পশু-পাখি, পোকামাকড়, গাছপালা থাকবে না যা 24 ঘন্টা আর বছরের 365 দিন এইসব টাওয়ার থেকে বেড়ানো আরএফ বিকিরণ এর স্তর থেকে বাচতে পারবে যা উপস্থিত থাকা বিকিরণের 10 থেকে 100 গুন পর্যন্ত বেশি হবে।
5G এর কারনে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হবে না
ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন আওনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেকশন (ICNIRP) বিভাগ নিজের রিপোর্টে পরিস্কার ভাবে বলেছে যে 5G উপকরণ থেকে বেড়ানো রেডিয়েশন এর লেভেল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের তুলনায় খুবই কম। 5জী রেডিয়েশনের মাত্রা এতটাই কম যে হিউম্যান বডি অর্থাৎ মানব শরীরে থাকা সেলকে কোনো ভাবেই ক্ষতি করে না। বলে দেওয়া যাক যে রিসার্চ সংস্থানই রেডিও ব্রডকাস্টিং এর রিস্ক টেস্ট করে আর তারা 5জী নেটওয়ার্কেরও পরিক্ষা করেছে, যা সুরক্ষিত প্রমাণিত হয়েছে।
UNICEF আর WHO কি বলেছে 5G সম্পর্কে
শুধু এটুকুই না বিশ্ব সংগঠন UNICEF ও একটি ব্লগে পরিস্কারভাবে বলেছে যে মোবাইল ইন্টারনেটের পঞ্চম জেনারেশন না কোনো ভাইরাস ছড়াচ্ছে আর না কোনো জীবের মৃত্যুর কারন হচ্ছে। আবার WHO ও জানিয়েছে যে কোরোনা ভাইরাস রেডিও ওয়েভ বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ট্রাভেল করতে পারে না। কিন্তু WHO এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী এই টেকনিক এখনো বিকসিত হচ্ছে তাই আরো রিসার্চের প্রয়োজন।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন











