এই মহাবিশ্ব আমাদের পৃথিবীর চারিদিকে লুকিয়ে থাকা রহস্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি রহস্যময়। অসীম আকাশের গভীরে কী আছে তা কেউ জানে না, বিজ্ঞানীরা ক্রমাগত এই সব রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করে চলেছেন। আপনাদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয় যে সূর্যের একটি আবর্তন সম্পূর্ণ করতে পৃথিবীর কত সময় লাগে, তাহলে আপনারা উত্তরে বলবেন 24 ঘন্টার। কিন্তু আমি যদি বলি যে আপনারা ভুল? হ্যাঁ, পৃথিবী ইতিমধ্যেই 24 ঘন্টার থেকে 1.59 মিলিসেকেন্ড কম সময়ে কম সময়ে সূর্যের একটি আবর্তন সম্পন্ন করেছে এবং সেইদিনটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দিন বলা হচ্ছে। এই অদ্ভুত ঘটনাটি 29 জুলাই ঘটেছিল, যা Earth’s Fastest Spin বলে পরিগনিত হয়।
একদিনে মাত্র 24 ঘন্টা থাকে আর তার মধ্যে আমরা সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা এবং রাত দেখতে পাই। আপনারা সকলেই হয়তো জানেন যে পৃথিবী যখন তার অক্ষের উপর একটি ঘূর্ণন সম্পূর্ণ করে, তখন পরের দিন শুরু হয় এবং এতে পৃথিবীর পুরো 24 ঘন্টা সময় লাগে। কিন্তু সম্প্রতি এক অদ্ভুত ঘটনা গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। পৃথিবী 24 ঘন্টারও কম সময়ে সূর্যের একটি আবর্তন সম্পন্ন করেছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে এক অক্ষে পৃথিবীর দ্রুততম ঘূর্ণন বলে বিবেচনা করেছেন এবং এই ঘটনাটি ইতিহাসে প্রথমবার ঘটেছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দিন
29শে জুলাই মানব ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয়, রহস্যময় এবং স্মরণীয় দিন হয়ে উঠেছে। একে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দিন। 29শে জুলাই, পৃথিবী 24 ঘন্টা পূর্ণ হওয়ার 1.59 মিলিসেকেন্ড আগে এই ঘূর্ণনটি সম্পন্ন করেছে। বিজ্ঞানীরা একে পৃথিবীর অক্ষে সবচেয়ে দ্রুত ঘূর্ণন বলে অভিহিত করেছেন।
মানবজাতির জন্য কি বিপদের আভাস?
পৃথিবীর সব বড় বড় বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গতি বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করছেন। 29 জুলাই, পৃথিবী তার গড় গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘোরে এবং এটি মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন আমাদের গ্রহ এমন করছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় নি, তবে এটা বন্ধ না হলে আগামীতে ভূমিকম্প, সুনামি এবং তীব্র জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা গুলি আমাদের ঘিরে ধরতে পারে।
পৃথিবীর গতি এর আগেও বেড়েছিল
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, 29 জুলাই, 2022 এর আগেও, পৃথিবী 24 ঘন্টা আগে তার অক্ষের ঘূর্ণন সম্পন্ন করেছে। এই ঘটনাটি ঘটেছিল 19 জুলাই 2020 সালে, যখন পৃথিবী 24 ঘন্টাস পূর্ণ হওয়ার মাত্র 1.47 মিলিসেকেন্ড আগেই অক্ষের ঘূর্ণন সম্পন্ন করেছিল।
টেকনোলজির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
অনেক বিজ্ঞানী একে ‘Chandler wobble’ দোষ বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এই টাইম জাম্প পারমাণবিক ঘড়ি, স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইটের উপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলতে পারে। ঘড়ির সময় 23:59:59 এর পরে পুনরায় সেট হয়ে 00:00:00 এ আসে, কিন্তু পৃথিবী যদি তার গতি বারবার বাড়িয়ে দ্রুত তার ঘূর্ণন পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে নেগেটিভ লিপ সেকেন্ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরনের টাইম জাম্প এর জন্য সমস্ত কম্পিউটার এবং ডিভাইসের ডেটা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
আমাদের ফেসবুকে ফলো করার জন্য এখানে ক্লিক করুন











