ভারতে ইন্টারনেট স্পিড এত স্লো কেন? আপনিও কি ভুক্তভোগী?

ভারতে শীঘ্রই 5G এন্ট্রি নেবে কিন্তু ভারতীয় মোবাইল ইউজাররা এখনও ভাল 4G ইন্টারনেট স্পিডের জন্য আকুল। বলা হচ্ছে 5G নেটওয়ার্কে শক্তিশালী কভারেজ এবং সুপার ফাস্ট ইন্টারনেট স্পিড পাওয়া যাবে, কিন্তু অনেকের অভিযোগ যে তারা এখনও 4G এর নামে 2G স্পিড পাচ্ছে। Jio, Airtel এবং Vi দাবি করছে যে তারা প্রথম 5G লঞ্চ করেছে, কিন্তু অন্যদিকে মোবাইল ইউজাররা স্লো ইন্টারনেট স্পিড এর কারণে একটা কথাই বলছেন যে ‘পরে 5G আনুন কিন্তু আগে 4G-এর স্পিড উন্নত করুন’৷ আপনিও যদি স্লো ইন্টারনেটের কারণে বিরক্ত হন , তাহলে জেনে নিন যে ভারতে মোবাইল ইন্টারনেট স্পিড এত স্লো কেন।

ইন্টারনেট স্পিডের দিক থেকে সারা বিশ্বে ভারতের নাম আসে 118 তম স্থানে। বছরের শুরুতে Ookla তাদের রিসার্চ রিপোর্টের মাধ্যমে এই পরিসংখ্যানটি ভাগ করেছে। আপনাদের জানিয়ে রাখি যে 15 আগস্ট 1995 সালে ভারতে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু হয়েছিল। এমন নয় যে এর আগে দেশে ইন্টারনেট কাজ করেনি। ভারত 1986 সালে নিজেই ইন্টারনেট সুবিধা পেয়েছিল কিন্তু সাধারণ জনগণের কাছে সেটা পৌঁছাতে 9 বছর লেগেছিল এবং 1995 সালের স্বাধীনতা দিবসে জনসাধারণের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা করা হয়েছিল। এটা ঠিক যে দেশে ইন্টারনেটের পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে ইন্টারনেটের স্পিড স্লো হওয়ার পেছনে মূল কারণ গুলি হল –

1. মোবাইল ইউজারদের সংখ্যা বাড়ছে

দেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মানুষ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে মোবাইল ফোন ইউজারের সংখ্যাও বাড়ছে। সস্তা স্মার্টফোনের আসার পর থেকে, ইন্টারনেট মার্কেটে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে এবং মুকেশ আম্বানির ফ্রি 4G ইন্টারনেট এর কারণে ইন্টারনেট এর চাহিদা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে, আগে ইউজাররা সীমিত ডেটা ব্যবহার করতেন, কিন্তু এখন এই সীমা বেড়েছে। ইন্টারনেট ইউজার এর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমন ডেটা খরচও বেড়েছে। ডেটার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় টেলিকম কোম্পানিগুলো এই চাহিদা মেটাতে পারছে না। নেটওয়ার্ক এবং সিগন্যালে প্রচুর লোড রয়েছে এবং তাই ইউজাররা স্লো ইন্টারনেট পরিষেবার মুখোমুখি হচ্ছেন।

2. সস্তা ডেটা প্ল্যান

অনেকেই বলে যে কোনও জিনিস যত দামি হবে তত ভালো হবে। এটি ইন্টারনেট ডেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনি জেনে অবাক হবেন যে বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে ইন্টারনেটের দাম খুবই কম। কিছুদিন আগে, Jio, Airtel এবং Vi মোবাইল প্ল্যানের দাম বাড়ানোয় প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সস্তা ডেটা প্ল্যানগুলি আরও বেশি লোকের কাছে 4G নিয়ে এসেছে, যার ফলস্বরূপ নিম্ন-মানের 4G নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই সব লো বাজেট প্ল্যানের কারণে টেলিকম অপারেটরদের আয় কমে যাচ্ছে এবং এর কারণে কোম্পানিগুলো তাদের নেটওয়ার্ক, সিস্টেম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আপগ্রেড করতে পারছে না।

3. দুর্বল অবকাঠামো

উপরে উল্লিখিত উভয় পয়েন্টের কারণে, ভারতীয় টেলিকম সেক্টর গুলো বর্তমানে আর্থিক বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েছে। লো বাজেট পরিষেবা এবং প্রচুর লোড এর কারণে এই সংস্থাগুলি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে পারছে না এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যর্থ হচ্ছে বলে করা মনে হচ্ছে। দেশের দুটি বড় টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিও এবং এয়ারটেল থেকে একটি বিবৃতি এসেছে যেখানে বলা হয়েছে যে তারা তাদের ARPU বাড়াতে চায় এবং এর জন্য মোবাইল ট্যারিফ প্ল্যানগুলি আবার ব্যয়বহুল হতে পারে। আপনাদের জানিয়ে রাখি যে ARPU-এর মানে হল একজন মোবাইল ইউজার মোবাইল পরিষেবার জন্য গড়ে কত টাকা খরচ করেন।

4. Spectrum Allocation

খারাপ মানের 4G স্পিড এর পিছনে স্পেকট্রামও একটি বড় কারণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের জনসংখ্যা এবং মোবাইল ইউজারদের তুলনায় ভারতে 4G স্পেকট্রাম অনেক কম। টেলিকম অপারেটরদের সাথে সীমিত স্পেকট্রাম থাকার মানে হল প্রতিটি সাবস্ক্রাইবারের জন্য স্পেকট্রামের অভাব থাকা। যদি শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক প্রদানকারী স্পেকট্রাম কম পড়ে, তাহলে ভাল এবং দ্রুত পরিষেবা আশা করার কোনও মানে নেই। ভারতে স্পেকট্রামের কমান্ড সরকারের হাতে এবং এমন পরিস্থিতিতে টেলিকম সংস্থাগুলি ভারত সরকারের উপর নির্ভরশীল। এই বছর অনুষ্ঠিত হতে চলা Spectrum Auction এর আগেই খবর পাওয়া গেছে যে সরকার তাদের দাম খুব বেশি রাখতে পারে। অর্থাৎ, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISPs) কোম্পানিগুলো যদি দামি স্পেকট্রাম কেনে, তাহলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে সাধারণ মানুষকেও পরিষেবা পাওয়ার জন্য বেশি টাকা ব্যয় করতে হবে।

ভারতে ইন্টারনেটের অবস্থা

প্রথমত, বিশ্বব্যাপী 4G ইন্টারনেট স্পিডের জন্য যে স্ট্যান্ডার্ড সেট করা হয়েছে সেটা হল 4G LTE-এ ডাউনলোডের স্পিড 150Mbps হওয়া উচিত এবং আপলোডের গতি 50Mbps পর্যন্ত হওয়া উচিত। 4G LTE-Advanced-এ, গড় ডাউনলোড স্পিড 300Mbps পর্যন্ত হওয়া উচিত এবং আপলোডের স্পিড 150Mbps পর্যন্ত হওয়া উচিত। ভারতের কথা বলতে গেলে, সম্প্রতি প্রকাশিত TRAI রিপোর্ট অনুসারে, Jio নেটওয়ার্ক 2022 সালের এপ্রিলে 23.1Mbps ডাউনলোড স্পিড পেয়েছিল, যা দেশের সমস্ত টেলিকম সংস্থাগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।

TRAI-এর মতে, Vi নেটওয়ার্ক এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্টারনেট স্পিড প্রদান করেছে। এই সময়ে Wi নেটওয়ার্কে 17.7Mbps এর গড় ডাউনলোড স্পিড পাওয়া গেছে। তিন নম্বরে ছিল Airtel, যারা তাদের মোবাইল ইউজারদের 14.1Mbps গড় ডাউনলোড স্পিড দিয়েছে। দেশের সরকারি নেটওয়ার্ক BSNL-এ গড় ডাউনলোড স্পিড 5.9Mbps দিয়েছে।

LEAVE A REPLY
Please enter your comment!
Please enter your name here